যাদের বয়স ৪০ বছরের উপরে, ধুমপায়ী, ডায়াবেটিস রোগী, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরল আছে এবং যারা কায়িক পরিশ্রম কম করে।
অ্যানজিনা পেকটোরিস প্রতিরোধের উপায় কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া।
(ii) সুষম এবং হৃৎবান্ধব খাবার খাওয়া।
(iii) স্থুলতা প্রতিরোধ করা।
(iv) ধুমপান ও মদপান পরিহার করা।
(v) নিয়মিত ব্যায়াম করা।
(vi) উচ্চ চর্বি যুক্ত খাবার না খাওয়া।
(vii) শরীরের ওজন কম রাখা।
(viii) ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
(ix) জিহŸার নিচে গিøসারিন ট্রাই নাইট্রাইড ব্যবহার করা।
(x) বেলুন অ্যানজিওপ্লাস্ট ও করোনারী বাইপাস সার্জারী করা।
অ্যানজিনা পেকটোরিসের লক্ষণ কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) বুকে প্রচন্ড ব্যথা এবং ঘাম ঝরে।
(ii) ব্যথা ৫-৩০ মিনিট স্থায়ী হয়।
(iii) বুকে জ্বালাপোড়া, চাপ, নিষ্পেষণ বা আড়ষ্ট ভাব
(iv) গলা, কাঁধ, বাহু, পিঠ, চোয়াল ও দাঁতে ব্যথা।
(v) হজমে গন্ডগোল ও বমি বমি ভাব
(vi) পেটে গ্যাস জমা।
(vii) ঘন ঘন শ্বাস-প্রশাস বা শ্বাস কষ্ট ও হাঁপানো।
(viii) মাথা ঘুরে, ঝিম ঝিম করে এবং ঝুলে পড়ে।
(ix) শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যায়, ক্লান্তি বোধ, হজমে গন্ডগোল হয়
(x) অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়।
(xi) স্টার্ণামের পিছনে ব্যথা হওয়া
(xii) অনেক সময় ব্যথা কোথায় হয় বুঝা যায় না।
অ্যানজিনা রোগের কারণ কী কী । Symptoms of Angina । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়া।
(ii) হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে রক্ত সরবরাহ কম বা বেশি হওয়া
(iii) দুপুর বা রাতে খাবার পর পরই শুয়ে পড়া।
(iv) পিত্তথলীতে পাথর জমা।
(v) খাবার পাকস্থলীর উপরের দিকে উঠে আসা।
(vi) ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ফুসফুসে প্রদাহ হলে।
(vii) বাতজ্বরে হৃৎপিন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হাওয়া।
(viii) মাংসপেশিতে হঠাৎ টান লাগা।
(ix) ধুমপান করা।
(x) দেহে মেদ বা চর্বি জমে যাওয়া।
(xi) নিয়মিত পরিশ্রম না করা।
(xii) দেহে রক্তশুন্যতা দেখা দেওয়া।
(xiii) বেশি টিপটপ জীবন-যাপন করা।
(xiv) ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনী রোগ, ডাইস্লিপিডেমিয়া রোগ হলে।
অ্যানজিনা কী । বুকের ব্যথা কী । হৃদশূল কী । Angina কী । Chest pain কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
হৃৎপেশিতে O2 যুক্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত সরবরাহ না হলে মারাত্বক অস্বস্তি অনুভূত হয়, একে হৃদশূল বা অ্যানজাইনা বলে। অ্যানজাইনা হলো হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাবস্থা।
অ্যানজিনার প্রকারভেদঃ অ্যানজিনা তিন ধরনের।
১। অস্থিত অ্যানজিনাঃ পরিশ্রম এবং চরম আবেগী বিষন্ন হলে বুকে ব্যথা হয়। বিশ্রাম নিলে নিরাময় হয়।
২। সুস্থিত অ্যানজিনাঃ বিশ্রামের সময় বুকে ব্যথা হয়। অনেক সময়ব্যাপী ব্যথা অনুভূত হয়। সহজে নিরাময় হয় না। এটি হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ।
৩। প্রিনজমেটাল অ্যানজিনাঃ বিশ্রামের সময়, ঘুমের সময় কিংবা ঠান্ডার কারণে ব্যথা অনুভূত হয়।
হৃৎবিজ্ঞান কী । Cardiology । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
শব্দ Kardia অর্থ হৃৎপিন্ড এবং logia অর্থ অধ্যায়ন নিয়ে Cardiology শব্দটি গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের যে শাখায় মানব হৃৎপিন্ডের রোগ, রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে অধ্যায়ন করা হয় তাকে হৃৎবিজ্ঞান বা Cardiology বলে। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও দক্ষ চিকিৎসককে কার্ডিওলজিস্ট (Cardiologist) বলে।
মানুষের হৃৎরোগ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মানব হৃৎপিন্ড এবং রক্তনালিকার সমস্যা বা রোগকে সমষ্টিগতভাবে হৃৎরোগ বা হার্ট ডিজিস বা কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিস বলে। করোনারী ধমনীর লুমেন চর্বি জমে ৫০-৭০% সংকীর্ণ হলে বুকে ব্যথা অনুভূত হয় এবং ৯০-৯৯% সংকীর্ণ হলে বøক হয়ে যায়। উন্নত বিশ্বের এক নম্বর মরণ বা ঘাতক ব্যাধি হলো হৃৎরোগ। কারণ পৃথিবীতে মোট মৃত্যুর ৩০% হলো হৃৎরোগ জনিত। কর্মজীবনের ১৫-৩০ বছরের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। উল্লেখযোগ্য হৃৎরোগ হলো- করোনারি হৃদরোগ, কার্ডিওমেগামি (হৃৎপিন্ড বড় হওয়া), ভালভুলার হার্টডিজিজ (কপাটিকা অকার্যকর), কনজেনিটাল হার্টডিজিজ (জন্মগত), পেরিকার্ডিটিস পেরিকার্ডিয়ামের প্রদাহ), কার্ডিওমায়োপ্যাথি (হৃৎপেশির রোগ), রিউম্যাটিক রোগ (হৃৎপেশি ও ভালভ) প্রভৃতি।
ব্যারোরিসিপ্টার কী । Baroreceptors । উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টার কী । নিম্নচাপ বা আয়তন ব্যারোরিসিপ্টার কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মেরুদন্ডী প্রাণীর রক্ত বাহিকায় বিদ্যমান যে সব সংবেদী ¯œায়ুকোষ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে তাদেরকে ব্যারোরিসিপ্টার বলে। ইহা হৃৎস্পন্দন ও শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে অস্বাভাবিক রক্তচাপকে স্বাভাবিক রক্তচাপে পরিনত করে। তাই এই প্রক্রিয়াকে ব্যারোরিফ্লেক্স (Baroreflex) বলে। ব্যারোরিসিপ্টার দু’ধরনের। উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টার এবং নিম্নচাপ ব্যারোরিসিপ্টার
১। উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টারঃ অ্যাওর্টিক আর্চ ও ক্যারোটিড সাইনাসে যে সব সংবেদী স্নায়ু কোষ থাকে তাদেরকে উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টার বলে। এরা সিস্টেমিক রক্তচাপ এবং মস্তিস্কের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
(i) নি¤œ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ হৃৎপিন্ড এবং রক্তনালিকায় রক্তচাপ কমে গেলে ব্যারোরিসেপ্টারের সংকেত মাত্রা কমে যায়। এই সংবাদ গ্লোসোফ্যারিঞ্জিয়াল এবং ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে মেডুলা অবলংগাটায় পোঁছায়। মেডুলা অবলংগাটা থেকে সংকেতগুলো হৃৎপেশি, প্রেসমেকার ও রক্তনালিকায় আসে। এতে হৃৎপিন্ডের স্পন্দন বেড়ে যায় এবং রক্তনালিকা সংকুচিত হয়। ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়।
(ii) উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ হৃৎপিন্ড এবং রক্তনালিকায় রক্তচাপ বেড়ে গেলে ব্যারোরিসেপ্টারের সংকেত মাত্রা বেড়ে যায়। এই সংবাদ মেডুলা অবলংগাটায় পোঁছায়। এতে ভেসোমোটর কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। একারণে হৃৎপিন্ড ও রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়।
২। নিম্নচাপ বা আয়তন ব্যারোরিসিপ্টারঃ যে সব ব্যারোরিসিপ্টার রক্তের আয়তন নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে নিম্নচাপ বা আয়তন ব্যারোরিসিপ্টার বলে। ইহা চেয়ে বড় ব্যারোরিসিপ্টার। এরা সিস্টেমিক শিরা, পালমোনারী শিরা, ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সব রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তের আয়তন বা পরিমাণ কমে গেলে রক্তচাপ কমে যায়। এই সংবাদ হাইপোত্যালামাসে পোঁছে। এরপর হাইপোথ্যালামাস থেকে পিটুইটারী গ্রন্থিতে আসে। পিটুইটারী গ্রন্থি হতে অ্যান্টিডাইউরেটিক বা ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোন নিঃসৃত হয়। অ্যান্টিডাইউরেটিক (ADH) হরমোন বৃক্কনালির পানি শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বৃক্কনালি মূত্র হতে পানি পুনঃশোষণ করে এবং তা রক্তের সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে রক্তের আয়তন বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোন সরাসরি রক্তনালিকার সংকোচন ঘটায় এবং রক্তচাপ বৃদ্ধ করে। জাক্সটা-গ্লোমেরুলাসের কোষ থেকে রেনিন হরমোন উৎপন্ন হয়। ইহা রক্তের আয়তন এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।
নিম্নচাপ ব্যারোরিসিপ্টার । আয়তন ব্যারোরিসিপ্টার । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
যে সব ব্যারোরিসিপ্টার রক্তের আয়তন নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে নিম্নচাপ বা আয়তন ব্যারোরিসিপ্টার বলে। ইহা চেয়ে বড় ব্যারোরিসিপ্টার। এরা সিস্টেমিক শিরা, পালমোনারী শিরা, ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সব রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তের আয়তন বা পরিমাণ কমে গেলে রক্তচাপ কমে যায়। এই সংবাদ হাইপোত্যালামাসে পোঁছে। এরপর হাইপোথ্যালামাস থেকে পিটুইটারী গ্রন্থিতে আসে। পিটুইটারী গ্রন্থি হতে অ্যান্টিডাইউরেটিক বা ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোন নিঃসৃত হয়। অ্যান্টিডাইউরেটিক (ADH) হরমোন বৃক্কনালির পানি শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বৃক্কনালি মূত্র হতে পানি পুনঃশোষণ করে এবং তা রক্তের সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে রক্তের আয়তন বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোন সরাসরি রক্তনালিকার সংকোচন ঘটায় এবং রক্তচাপ বৃদ্ধ করে। জাক্সটা-গ্লোমেরুলাসের কোষ থেকে রেনিন হরমোন উৎপন্ন হয়। ইহা রক্তের আয়তন এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।
উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টার কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
অ্যাওর্টিক আর্চ ও ক্যারোটিড সাইনাসে যে সব সংবেদী স্নায়ু কোষ থাকে তাদেরকে উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টার বলে। এরা সিস্টেমিক রক্তচাপ এবং মস্তিস্কের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
(i) নি¤œ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ হৃৎপিন্ড এবং রক্তনালিকায় রক্তচাপ কমে গেলে ব্যারোরিসেপ্টারের সংকেত মাত্রা কমে যায়। এই সংবাদ গ্লোসোফ্যারিঞ্জিয়াল এবং ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে মেডুলা অবলংগাটায় পোঁছায়। মেডুলা অবলংগাটা থেকে সংকেতগুলো হৃৎপেশি, প্রেসমেকার ও রক্তনালিকায় আসে। এতে হৃৎপিন্ডের স্পন্দন বেড়ে যায় এবং রক্তনালিকা সংকুচিত হয়। ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়।