ইওসিনোফিল কী । ইওসিনোফিলের গঠন ও কাজ । Eosinophil । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

এদের সাইটোপ্লাজম নীলাভ ও অম্লধর্মী এবং দানাগুলো ইওসিন রঞ্জকে লালচে-কমলা বর্ণ ধারণ করে। এরা গোলাকার এবং নিউক্লিয়াস ২-৩ খন্ডবিশিষ্ট। এদের ব্যাস ১২-১৭ µm। এদের সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিলিটারে ১৫০-৪০০। অর্থাৎ শ্বেত রক্তকণিকার ১.৫%। আয়ুকাল ৮-১২ দিন। ইহা লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়। এরা পৌষ্টিকনালিতে বেশি থাকে।

ইওসিনোফিলের কাজ

(i) এরা লার্ভানাশক পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে এবং কৃমির লার্ভা ধ্বংস করে

(ii) ইহা এলার্জিক অ্যান্টিবডি ধ্বংস করে।

(iii) ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু গ্রাস করে

(iv) হাইড্রোলাইটিক এনজাইম ক্ষরণ করে।

(iv) SchistosomaTrichinella পরজীবীর মৃত্যু ঘটায়।

নিউট্রোফিল কী । নিউট্রোফিলের গঠন ও কাজ । Neutrophil । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নিউট্রোফিলের সাইটোপ্লাজম বর্ণ নিরপেক্ষ এবং দানাযুক্ত। এরা গোলাকার এবং নিউক্লিয়াস ২-৫ খন্ড বিশিষ্ট। এদের ব্যাস ১২-১৫ µm। এদের সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিলিটারে ৪৯০০টি। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি যা ৭০%। আয়ুকাল ২-৫ দিন। ইহা লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়। এরা অ্যামিবয়েড চলন প্রদর্শন করে এবং কৌশিক জালিকার ছিদ্র দিয়ে সংক্রমণস্থলে উপস্থিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে ডায়াপেডেসিস বলে। এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।

নিউট্রোফিলের কাজ

(i) এরা জীবাণু সম্পর্কে রাসায়নিক বার্তা প্রেরণ করে

(ii) লিপিড জাতীয় পদার্থ ক্ষরণ করে রক্তনালির ভেদ্যতা বৃদ্ধি করে

(iii) ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু গ্রাস করে

গ্র্যানিউলোসাইট । Granulocytes । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাদার তাদেরকে গ্র্যানিউলোসাইট বলে। দানাগুলো লিইশম্যান রঞ্জকে রঞ্জিত হয়। এর নিউক্লিয়াস ২-৭ খন্ডবিশিষ্ট। শ্বেত রক্তকণিকার ৭২% হলো গ্র্যানুলোসাইট। এদের আয়ুষ্কাল ৪-৮ ঘন্টা। এরা অস্থিমজ্জার মায়েলোব্লাস্ট কোষ থেকে উৎপন্ন হয়।

শ্বেত রক্তকণিকার রাসায়নিক উপাদান । WBC । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নিউক্লিওপ্রোটিন, গ্লাইকোজেন, লিপিড, কোলেস্টেরল, অ্যাসকরবিক এসিড ও প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে।

শ্বেত রক্তকণিকার উৎপত্তি । WBC। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ইহা অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি হতে উৎপন্ন হয়। শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে মায়েলোপয়সিস (myelopoiesis) বলে।

শ্বেত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য । WBC । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। এতে হিমোগ্লোবিন থাকে না বলে বর্ণহীন হয়।

২। ইহা অনিয়তাকার এবং অপেক্ষাকৃত বড়।

৩। এর ব্যাস প্রায় ৭.৫-২০.০০ µm।

৪। এর আকার পরিবর্তিত হতে পারে।

৫। ইহা নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং নিউক্লিয়াস এক প্রান্তে অবস্থান করে।

৬। এর নিউক্লিয়াস প্রথমে গোলাকার, ডিম্বাকার বা বৃত্তাকার হয় এবং বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে বৃক্কাকার

অথবা অশ্বখুরাকৃতির হয়।

৭। এর গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

৮। ইহা অ্যামিবয়েড চলন প্রদর্শন করে। এ পদ্ধতিতে ইহা সংক্রমিত স্থানে পৌঁছে এ¦বং জীবাণু ধ্বংস করে।

শ্বেত রক্তকণিকা কী । Leucocytes-WBC । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ Leucos অর্থ বর্ণহীন এবং kytos অর্থ কোষ নিয়ে leucocyte শব্দটি গঠিত। রক্তের বর্ণহীন অনিয়তাকার নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট কণিকাকে শ্বেত রক্তকণিকা বলে। লিম্ফোসাইট ও ফ্যাগোসাইট হলো সতর্ক প্রহরী এবং এরা জীবাণু মোকাবেলা করে। যকৃতের কাপফার কোষ হলো এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা। শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে তাকে লিউকোসাইটোসিস এবং কম থাকলে তাকে লিউকোপেনিয়া বলে। এর সংখ্যা কমে গেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ক্যানসার হলে তাকে লিউকোমিয়া বলে।

লোহিত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য, উৎপত্তি, পরিমাণ ও কাজ । RBC । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ Erythros অর্থ লাল এবং kytos অর্থ কোষ নিয়ে erythrocyte শব্দটি গঠিত। রক্তের লাল বর্ণের দ্বি-অবতল চাকতির মতো কণিকাকে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমাটিড বা erythrocyte বা RBC বলে। মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকা প্রতি ৬০ সেকেন্ডে একবার সমগ্র দেহ পরিভ্রমণ করে। দেহে ২০-৩০ ট্রিলিয়ন লোহিত রক্তকণিকা থাকে যা দেহের সকল কোষের ৭০%। রক্তে লোহিত রক্তকণিকার আয়তন পরিমাপের শতকরা হিসাবকে হেমাটোক্রিট (HCT) বলে। দেহে এর অভাব হলে রক্তাল্পতা এবং বেশি হলে পলিসাইথেমিয়া হয়। শিশুদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

লোহিত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য (RBC)

১। এতে হিমোগ্লোবিন থাকে বলে লাল বর্ণের হয়। ১০০ মিলি রক্তে ১৫-১৬ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে। প্রতিটি লোহিত রক্তকণিকায় ২৯ পিকোগ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে।

২। ইহা গোলাকার, দ্বি-অবতল ও চাকতির মতো।

৩। এর ব্যাস প্রায় ৭.৫ µm এবং পুরুত্ব ২.০-২.৫ µm।

৪। এর পরিধি মসৃণ ও পুরু এবং মধ্যাংশ পাতলা। কেন্দ্রের পুরুত্ব ১.০ µm।

৫। স্তন্যপায়ীর লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না (ব্যতিক্রম-উট)।

৬। এর গড় আয়ু ১২০ দিন বা ৪ মাস। এ সময়ে ইহা ১১০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করে।

৭। এতে ৬০-৭০% পানি এবং ৩০-৪০% কঠিন পদার্থ থাকে (কঠিন পদার্থের মধ্যে ৯০% হলো হিমোগ্লোবিন)।

৮। ইহা বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন তৈরীতে সাহায্য করে।

 

লোহিত রক্তকণিকার উৎপত্তি (RBC)

ভ্রুণাবস্থায় যকৃত, প্লীহা ও থাইমাস থেকে লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়। জন্মের পর ২০ বছর বয়স পর্যন্ত অস্থিমজ্জা (এরিথ্রোব্লাস্ট বা স্টোম কোষ ও হিমোসাইটোব্লাস্ট কোষ) থেকে উৎপন্ন হয়। অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হওয়ার সময় নিউক্লিয়াস থাকে বলে একে ইরাইথ্রোব্লাস্ট বলে। জীবনের বাকি সময় হিউমেরাস, ফিমার, স্টার্ণাম, কশেরুকা, পর্শুকা প্রভৃতির প্রান্ত হতে সৃষ্টি হয়। মানবদেহে প্রতি মাসে৪০০-৫০০ মিলি লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়। প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিলিয়ন লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয় এবং ১০ মিলিয়ন ধ্বংস হয়। ইহা যকৃত এবং প্লীহায় ধ্বংস হয়। বৃক্ক এরিথ্রোপয়েটিন হরমোন ক্ষরণ করে। এরিথ্রোপয়েটিন হরমোন লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন (কম বা বেশি) নিয়ন্ত্রণ করে। লোহিত রক্তকণিকা সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে এরিথ্রোপয়েসিস (erythropoiesis) বলে।

 

লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ RBC

প্রতি ঘনমিলিলিটার রক্তে পুরুষের দেহে ৫০-৫৪ লক্ষ, স্ত্রীলোকের দেহে ৪৫-৪৮ লক্ষ, শিশুর দেহে ৬০-৭০ লক্ষ এবং ভ্রুণে ৮০-৯০ লক্ষ লোহিত রক্তকণিকা থাকে। ব্যায়াম ও গর্ভাবস্থায় এই কণিকা বেশি থাকে।

 

লোহিত রক্তকণিকার কাজ (Functions of RBC)

১। অক্সিজেন পরিবহনঃ লোহিত রক্তকণিকা অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন পরিবহন করে।

২। কার্বন ডাই অক্সাইডঃ লোহিত রক্তকণিকা কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন করে।

৩। পিত্তরঞ্জক উৎপন্নঃ লোহিত রক্তকণিকা পরিবর্তিত হয়ে বিলিরুবিন বিলিভার্ডিন তৈরী করে।

৪। সান্দ্রতাঃ ইহা রক্তের ঘনত্ব সান্দ্রতা বজায় রাখে।

৫। ¤ø-ক্ষারের ভারসাম্য বজায়ঃ  লোহিত রক্তকণিকা দেহে অম্লক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখে।

৬। ব্লাড গ্রুপিংঃ এর প্লাজমা মেমব্রেণেন অ্যান্টিজেন প্রোটিন থাকে যা ব্লাড গ্রুপিং এর জন্য দায়ি।

৭। নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্নঃ লোহিত রক্তকণিকা নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্ন করে। নাইট্রিক অক্সাইড এন্ডোথেলিয়াল কোষে L-arginine এর মতো ব্যবহার হয়।

৮। রক্ত নালিকার সঙ্কোচনঃ লোহিত রক্তকণিকা হাইড্রোজেন সালফাইড উৎপন্ন করে। হাইড্রোজেন সালফাইড রক্ত নালির সঙ্কোচনের জন্য সংকেত প্রদান করে।

লোহিত রক্তকণিকার কাজ বা গুরুত্ব । Functions of RBC । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। অক্সিজেন পরিবহনঃ লোহিত রক্তকণিকা অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন পরিবহন করে।

২। কার্বন ডাই অক্সাইডঃ লোহিত রক্তকণিকা কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন করে।

৩। পিত্তরঞ্জক উৎপন্নঃ লোহিত রক্তকণিকা পরিবর্তিত হয়ে বিলিরুবিন বিলিভার্ডিন তৈরী করে।

৪। সান্দ্রতা ইহা রক্তের ঘনত্ব সান্দ্রতা বজায় রাখে।

৫। অম্লক্ষারের ভারসাম্য বজায়ঃ  লোহিত রক্তকণিকা দেহে অম্লক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখে।

৬। ব্লাড গ্রুপিংঃ এর প্লাজমা মেমব্রেণেন অ্যান্টিজেন প্রোটিন থাকে যা ব্লাড গ্রুপিং এর জন্য দায়ি।

৭। নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্নঃ লোহিত রক্তকণিকা নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্ন করে। নাইট্রিক অক্সাইড এন্ডোথেলিয়াল কোষে L-arginine এর মতো ব্যবহার হয়।

৮। রক্ত নালিকার সঙ্কোচনঃ লোহিত রক্তকণিকা হাইড্রোজেন সালফাইড উৎপন্ন করে। হাইড্রোজেন সালফাইড রক্ত নালির সঙ্কোচনের জন্য সংকেত প্রদান করে।

লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ । RBC । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রতি ঘনমিলিলিটার রক্তে পুরুষের দেহে ৫০-৫৪ লক্ষ, স্ত্রীলোকের দেহে ৪৫-৪৮ লক্ষ, শিশুর দেহে ৬০-৭০ লক্ষ এবং ভ্রুণে ৮০-৯০ লক্ষ লোহিত রক্তকণিকা থাকে। ব্যায়াম ও গর্ভাবস্থায় এই কণিকা বেশি থাকে।