হাইড্রার বিভাজন ।। Hydra Fission ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রার দেহ দুই বা ততোধিক খন্ডে বিভক্ত হলে প্রত্যেক খন্ড থেকে নতুন হাইড্রা জন্মায়। একে পুনরুৎপত্তি বলে। হাইড্রার বিভাজন দুই ভাবে হয়ে থাকে। অনুদৈর্ঘ্য বিভাজন এবং অনুপ্রস্থ বিভাজন।

(i) অনুদৈর্ঘ্য বিভাজনঃ হাইড্রার দেহ লম্বালম্বি ভাবে দুই বা ততোধিক খন্ডে বিভক্ত হলে প্রতিটি খন্ড থেকে নতুন হাইড্রা সৃষ্টি হয়।

(ii) অনুপ্রস্থ বিভাজনঃ হাইড্রার দেহ অনুপ্রস্থ ভাবে দুই বা ততোধিক খন্ডে বিভক্ত হলে প্রতিটি খন্ড থেকে নতুন হাইড্রা উৎপত্তি লাভ করে।

হাইড্রার মুকুলোদ্গম ।। Hydra Budding ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রার মুকুলোদ্গম একটি অযৌন জনন প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধির জন্য পুরুষ বা স্ত্রী হাইড্রার প্রয়োজন হয় না। তাই ইহা একটি সহজ পদ্ধতি। গ্রীষ্মকালে পরিবেশে খাদ্যের পরিমাণ বেশি থাকে। হাইড্রা খাদ্য গ্রহণ করে দৈহিক ভাবে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। তখন হাইড্রায় মুকুলোদ্গম ঘটে। মুকুলের সংখ্যা যত বেশি হবে হাইড্রার সংখ্যা বৃদ্ধি ততদ্রুত হবে।

(i) গ্রীষ্মকালে হাইড্রা পরিবেশ হতে খাদ্য গ্রহণ করে বৃদ্ধি লাভ করে এবং আকারে বড় হয়।

(ii) দেহের মধ্যাংশ অথবা নিম্নাংশের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়ে একটি ক্ষুদ্র স্ফীত অংশের সৃষ্টি করে।

(iii) স্ফীত অংশটি বৃদ্ধি পেয়ে ফাঁপা নলাকার মুকুলে পরিনত হয়।

(iv) মুকুলে ধীরে ধীরে এপিডার্মিস, মেসোগিøয়া গ্যাস্ট্রোডার্মিস উৎপন্ন হয়।

(v) সিলেন্টেরন ধীরে ধীরে মাতৃহাইড্রা হতে মুকুলে প্রসারিত হয়।

(vi) মুকুলটি মাতৃহাইড্রা হতে পুষ্টি গ্রহণ করে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।

(vii) মুকুলে মুখছিদ্র, হাইপোস্টোম কর্ষিকা গঠিত হয়।

(viii) মাতৃহাইড্রা মুকুলের সংযোগস্থলে একটি বৃত্তাকার খাঁজ সৃষ্টি হয়।

(ix) খাঁজটি ধীরে ধীরে গভীর হয়ে অপত্য হাইড্রাকে মাতৃহাইড্রা হতে বিছিন্ন করে।

(x) অপত্য হাইড্রা বিছিন্ন হওয়ার পর পদতল গঠিত হয়। এরপর উহা নিমজ্জিত বস্তুর সাথে আটকে থাকে এবং স্বাধীন ভাবে জীবনযাপন করে।

একটি হাইড্রায় একই সঙ্গে কয়েকটি মুকুল সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিটি মুকুল থেকে আবার নতুন মুকুল সৃষ্টি হতে পারে। সময় মাতৃহাইড্রাকে দলবদ্ধ প্রাণীর মতো মনে হয়। মুকুল সৃষ্টি এবং মাতৃ হাইড্রা হতে বিচ্যুত হয়ে স্বাধীন ভাবে জীবনযাপন করতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে।

হাইড্রার উত্তেজিতা ।। Irritability of Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। স্পর্শঃ হাইড্রাকে সূচ দিয়ে খোচা দিলে দেহ সংকুচিত করে। পাতা, জলজ উদ্ভিদ, কোন বস্তু প্রভৃতির সংস্পর্শে হাইড্রা পদচাকতি দ্বারা আটকে যায়।

২। ক্ষুধাঃ ক্ষুধার্ত হাইড্রা কর্ষিকাগুলো সঙ্কোচন-প্রসারণ ঘটায়। খাদ্যাম্বেষণের জন্য খুব দ্রæত গতিতে দেহকে সঞ্চালিত করে। ক্ষুধা না থাকলে এদের গতি মন্থর হয়।

৩। তাপমাত্রাঃ হাইড্রা সর্বদা ২০ ডিগ্রী সে তাপমাত্র বিশিষ্ট শীতল পানি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। জলাশয়ের উপরিভাগের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে হাইড্রা ধীরে ধীরে নিচের দিকে চলে যায়।

৪। আলোঃ হাইড্রা অত্যধিক আলো অথবা অন্ধকার কোনটিই পছন্দ করে না। সব সময় পরিমিত আলো পছন্দ করে।

৫। বিদ্যুৎ প্রবাহঃ অবিরাম বিদ্যুৎ প্রবাহ চললে হাইড্রাদেহকে অ্যানোডের দিকে বাঁকিয়ে দেয়। পরে সম্পূর্ণ দেহকে সংকুচিত করে।

হাইড্রার স্নায়ুতন্ত্র ।। Nerve system ।। Hydra।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রা নিম্নশ্রেণীর প্রাণী। এদের দেহে দুর্বল প্রকৃতির স্নায়ুতন্ত্র বিদ্যমান। প্রাণীজগতে হাইড্রা তথা নিডারিয়ানদের সর্বপ্রথম স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছে। এদের অনিয়তাকার স্নায়ুকোষ থেকে স্নায়ুতন্ত্র বের হয় এবং মিলিত হয়ে স্নায়ুজালক গঠন করে। স্নায়ুতন্ত্র গুলোতে অ্যাক্সন বা ডেনড্রাইট থাকে না এবং কখনো সিন্যাপস্ গঠন করে না। মেসোগিøয়ার উভয় পাশে একটি করে স্নায়ুজালক থাকে। স্নায়ুজালক গুলো এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের সাথে যুক্ত থাকে। মুখছিদ্র ও পদচাকতিতে স্নায়ুজালক গুলো ঘনসন্নিবিষ্টভাবে অবস্থান করে। স্নায়ুজালক গুলো একে অপরের সাথে এবং সংবেদী কোষ ও পেশি কোষের সাথে যুক্ত থাকে। সংবেদী কোষ পরিবেশ হতে আলোক, স্পর্শ ও রাসায়নিক উদ্দীপনা গ্রহণ করে। এরপর স্নায়ুজালকের মাধ্যমে পেশি আবরণী কোষে প্রেরণ করে।

হাইড্রার রেচন ।। Excretion

হাইড্রার কোন নির্দিষ্ট রেচন অঙ্গ নাই। কোষে বিপাকের ফলে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পানিতে মুক্ত হয়।

হাইড্রার শ্বসন প্রক্রিয়া ।। Respiration ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রার কোন নির্দিষ্ট ^সন অঙ্গ নাই। ইহা এপিডার্মিস গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাধ্যমে গ্যাসীয় পদার্থের বিনিময় ঘটায়।

১। এপিডার্মিস (Epidermis) দেহের চারপাশের পানি থেকে দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় এপিডার্মাল কোষে প্রবেশ করে। গৃহীত অক্সিজেন দেহের বিভিন্ন কোষে পৌছে এবং শ্বাস ক্রিয়া সম্পন্ন করে। ^সনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দেহের বাইরে নির্গত হয়।

২। গ্যাস্ট্রোডার্মিস (Gastrodermis) গ্যাস্ট্রোডার্মিসে ফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোষ থাকে। ফ্ল্যাজেলার আন্দোলনের ফলে মুখছিদ্রে অবিরাম পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়। পানি থেকে দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস্ট্রোডার্মাল কোষে প্রবেশ করে। গৃহীত অক্সিজেন দেহের বিভিন্ন কোষে পৌছে এবং শ্বাস ক্রিয়া সম্পন্ন করে। ^সনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দেহের বাইরে নির্গত হয়।

হাইড্রার বিভিন্ন ধরনের চলন বিস্তারিত ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে প্রক্রিয়ায় জীবদেহ জৈবিক প্রয়োজনে নিজ প্রচেষ্টায় স্থানান্তরিত হয় তাকে চলন বলে।

হাইড্রার চলন প্রক্রিয়াঃ হাইড্রার বিভিন্ন ধরনের চলন হলো- লুপিং,  সমারসল্টিং, গ্লাইডিং, ভাসা চলন, সাঁতার,  হেচড়ান, নতমুখী চলন, ডুবা চলন  এবং দেহের সংকোচন-প্রসারণ।

১। লুপিং বা ফাঁসা বা জোঁকা বা শুঁয়াপোকা চলন (Looping)ঃ যে প্রক্রিয়ায় হাইড্রা লুপ বা ফাঁস সৃষ্টির মাধ্যমে চলাচল করে তাকে লুপিং চলন বলে। হাইড্রা লম্বা দুরত্ব অতিক্রমের জন্য লুপিং চলন প্রদর্শন করে।

(i) এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা পদতল দ্বারা গতিপথের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

(ii) মাথাকে সামনের দিকে বাঁকিয়ে কর্ষিকা দ্বারা গতিপথকে স্পর্শ করে।

(iii) কর্ষিকার নেমাটোসিস্ট দ্বারা ভিত্তিকে স্পর্শ করলে পদতল ও মাথার মাঝখানে একটি লুপ সৃষ্টি হয়।

(iv) এরপর পদতলকে টেনে মাথার কর্ষিকার নিকটে আনে।

(v) পদতল দ্বারা গতিপথকে পুনরায় স্পর্শ করে।

(vi) পদতলের উপর ভর করে মাথা উচিয়ে পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

(vii) অতঃপর মাথাকে সামনের দিকে বাঁকিয়ে অগ্রসর হয়।

এভাবে লুপ তৈরীর মাধ্যমে হাইড্রা সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

২। সমারসল্টিং বা ডিগবাজী (Somersaulting)ঃ হাইড্রার দ্রæত চলন প্রক্রিয়া হলো সমারসল্টিং। প্রতিবার চলনে দুইটি লুপ সৃষ্টি হয়।

(i) এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা পদতল দ্বারা গতিপথকে স্পর্শ করে।

(ii) পদতলের উপর ভর করে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

(iii) মাথাকে সামনের দিকে বাকিয়ে কর্ষিকা দ্বারা গতিপথকে স্পর্শ করে।

(iv) কর্ষিকার উপর ভর করে পদতল উপরে উঠিয়ে  উল্টো ভাবে দাঁড়ায়।

(v) পদতলের উপর ভর করে কর্ষিকা মুক্ত করে এবং মাথা উপরে উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

এভাবে ডিগবাজীর মাধ্যমে হাইড্রা সামনের দিকে অগ্রসর হয়।

৩। গ্লাইডিং বা অ্যামিবয়েড চলন (Gliding)ঃ অতি সামান্য দুরত্ব অতিক্রমের জন্য হাইড্রা গ্লাইডিং প্রক্রিয়ায় চলাচল করে। এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা অ্যামিবার মতো ধীরগতিতে চলে। হাইড্রার পদতলের বহিঃত্বকের কোষ গুলো হতে পিচ্ছিল রস নিঃসৃত হয়। এতে পদতলের ঐ স্থান হতে ক্ষণপদ সৃষ্টি হয়। ক্ষণপদ মসৃণ তলে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। সেই সঙ্গে হাইড্রাও অতি ধীরগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এভাবে হাইড্রা অতি ধীরে ধীরে অতি সামান্য দুরত্ব অতিক্রম করে।

৪। ভাসা চলন (Floating)ঃ হাইড্রা পদতলকে মুক্ত করে উল্টোভাবে অবস্থান করে। অর্থাৎ পদতল উপরের দিকে এবং মৌখিক তল নিচের দিকে অবস্থান করে। পদতলের গ্রন্থি থেকে গ্যাস ও মিউকাস নিঃসৃত হয়। নিঃসৃত গ্যাস ও মিউকাস মিলে বুদবুদ সৃষ্টি করে। বুদবুদের সাহায্যে হাইড্রা পানিতে ভেসে থাকে। এসময় স্রোতের টানে অথবা ঢেউয়ের আঘাতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভেসে চলে।

৫। সাঁতার চলন (Swimming)ঃ হাইড্রা দেহকে মুক্ত করে আনুভ‚মিকভাবে অবস্থান করে। কর্ষিকাগুলোকে ঢেউয়ের মতো আন্দোলিত করে। এসময় দেহকেও আন্দোলিত করে। এভাবে ঢেউ বা তরঙ্গের মতো আন্দোলন সৃষ্টি করে সাঁতার কাটতে থাকে।

৬। নতমুখী চলন বা হাঁটা চলন (Walking)ঃ হাইড্রা পদতলকে মুক্ত করে উল্টোভাবে অবস্থান করে। অর্থাৎ পদতল উপরের দিকে এবং মৌখিক তল নিচের দিকে অবস্থান করে। দেহের সম্পূর্ণ ভার কর্ষিকার উপর স্থাপন করে। কর্ষিকাকে পায়ের মতো ব্যবহার করে ধীর গতিতে এগিয়ে চলে।

৭। হামাগুড়ি বা আরোহণ চলন (Climbing) ঃ হাইড্রা কর্ষিকা দ্বারা নিমজ্জিত উদ্ভিদের শাখা-প্রশাখাকে আঁকড়ে ধরে। পদতল মুক্ত করে সঙ্কুচিত করে। এরপর পদতলকে নতুন জায়গায় স্থাপন করে। এভাবে সঙ্কোচনের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করে।

৮। দেহের সঙ্কোচন-প্রসারণ (contraction and expanion)ঃ হাইড্রা দেহকে মুক্ত করে এবং পেশি আবরণী কোষের সঙ্কোচন ও প্রসারণ ঘটায়। এতে দেহের আকার দ্রæত খাটো ও লম্বা হয়। ফলে এক ধরনের চলন সৃষ্টি এবং স্থান পরিবর্তন করে।

৯। ডুবা চলন (Drawing)ঃ দেহে বুদবুদ সৃষ্টি না হলে দেহ ভারি হয়ে যায়। দেহ ভারি হওয়ার কারণে দ্রæত পানির নিচে চলে যায়। একে ডুবা চলন বলে।

হাইড্রার গ্লাইডিং চলন ।। অ্যামিবয়েড চলন ।। Gliding ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অতি সামান্য দুরত্ব অতিক্রমের জন্য হাইড্রা গ্লাইডিং প্রক্রিয়ায় চলাচল করে। এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা অ্যামিবার মতো ধীরগতিতে চলে। হাইড্রার পদতলের বহিঃত্বকের কোষ গুলো হতে পিচ্ছিল রস নিঃসৃত হয়। এতে পদতলের ঐ স্থান হতে ক্ষণপদ সৃষ্টি হয়। ক্ষণপদ মসৃণ তলে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। সেই সঙ্গে হাইড্রাও অতি ধীরগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এভাবে হাইড্রা অতি ধীরে ধীরে অতি সামান্য দুরত্ব অতিক্রম করে।

হাইড্রার সমারসল্টিং চলন ।। ডিগবাজী চলন ।। Somersaulting ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রার দ্রæত চলন প্রক্রিয়া হলো সমারসল্টিং। প্রতিবার চলনে দুইটি লুপ সৃষ্টি হয়।

(i) এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা পদতল দ্বারা গতিপথকে স্পর্শ করে।

(ii) পদতলের উপর ভর করে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

(iii) মাথাকে সামনের দিকে বাকিয়ে কর্ষিকা দ্বারা গতিপথকে স্পর্শ করে।

(iv) কর্ষিকার উপর ভর করে পদতল উপরে উঠিয়ে  উল্টো ভাবে দাঁড়ায়।

(v) পদতলের উপর ভর করে কর্ষিকা মুক্ত করে এবং মাথা উপরে উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

এভাবে ডিগবাজীর মাধ্যমে হাইড্রা সামনের দিকে অগ্রসর হয়।

হাইড্রার লুপিং চলন ।। ফাঁসা বা জোঁকা চলন ।। শুঁয়াপোকা চলন ।। Looping ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে প্রক্রিয়ায় হাইড্রা লুপ বা ফাঁস সৃষ্টির মাধ্যমে চলাচল করে তাকে লুপিং চলন বলে। হাইড্রা লম্বা দুরত্ব অতিক্রমের জন্য লুপিং চলন প্রদর্শন করে।
(i) এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা পদতল দ্বারা গতিপথের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
(ii) মাথাকে সামনের দিকে বাঁকিয়ে কর্ষিকা দ্বারা গতিপথকে স্পর্শ করে।
(iii) কর্ষিকার নেমাটোসিস্ট দ্বারা ভিত্তিকে স্পর্শ করলে পদতল ও মাথার মাঝখানে একটি লুপ সৃষ্টি হয়।
(iv) এরপর পদতলকে টেনে মাথার কর্ষিকার নিকটে আনে।
(v) পদতল দ্বারা গতিপথকে পুনরায় স্পর্শ করে।
(vi) পদতলের উপর ভর করে মাথা উচিয়ে পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
(vii) অতঃপর মাথাকে সামনের দিকে বাঁকিয়ে অগ্রসর হয়।
এভাবে লুপ তৈরীর মাধ্যমে হাইড্রা সামনের দিকে এগিয়ে যায়।