উদ্ভিদের জীবনচক্রে গ্যামিটোফাইট দশা ও স্পোরোফাইট দশার পর্যায়ক্রমিক আবির্ভাবকে জনুঃক্রম বলে। টেরিস-এর জীবনচক্রে দু’টি দশা বিদ্যমান। স্পোরোফাইট দশা এবং গ্যামিটোফাইট দশা।
১। স্পোরোফাইট দশাঃ উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় স্পোর উৎপন্ন হয় তাকে স্পোরোফাইটিক দশা বলে। গ্যামিটোফাইট উদ্ভিদে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট হলো স্পোরোফাইট দশার প্রথম কোষ। জাইগোট প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে উস্পোর বা জাইগোস্পোরে পরিনত হয়। জাইগোস্পোর অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়। অঙ্কুরিত জাইগোস্পোরটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজনের মাধ্যমে স্পোরোফাইট উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। স্পোরোফাইট উদ্ভিদের পাতার কিনারা বরাবর স্পোরাঞ্জিয়া সৃষ্টি হয়। প্রতিটি স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতর ১৬টি করে স্পোর মাতৃকোষ থাকে। প্রতিটি স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি করে স্পোর উৎপন্ন করে। এই অবস্থাকে টেট্রাড বলে। ফলে প্রতিটি স্পোরাঞ্জিয়ামে ৬৪টি করে স্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোর পরিনত হলে স্পোরাঞ্জিয়ামের প্রাচীর বিদীর্ণ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। স্পোর উৎপন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পোরোফাইট দশার পরিসমাপ্তি ঘটে।
২। গ্যামিটোফাইট দশাঃ উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় গ্যামিট তথা শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় তাকে গ্যামিটোফাইটিক দশা বলে। স্পোরোফাইট উদ্ভিদে স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে স্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোর হলো গ্যামিটোফাইট দশার প্রথম কোষ। স্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে ৪-৬ কোষ বিশিষ্ট প্রোটোনেমা গঠন করে। প্রোটোনেমার দুই পাশের কোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজনের মাধ্যমে সবুজ বর্ণের হৃৎপিন্ডাকার প্রোথ্যালাস সৃষ্টি করে। Pteris-হলো সহবাসী উদ্ভিদ। এদের অগ্রস্থ খাঁজের নিচে কলসী বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির আর্কিগোনিয়া এবং থ্যালাসের নিচের দিকে গোলাকার বা ডিম্বাকার অ্যান্থেরিডিয়া জন্মে। প্রতিটি আর্কিগোনিয়ামের মধ্যে একটি করে ডিম্বাণু এবং অ্যান্থেরিডিয়ামের মধ্যে ২০-৫০টি করে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যামিটোফাইট দশার পরিসমাপ্তি ঘটে।
জাইগোট অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে স্পোরোফাইট গঠন করে। স্পোরোফাইটে স্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোর অংকুরিত হয়ে আবার গ্যামিটোফাইট গঠন করে। এভাবে স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইট দশার পর্যায়ক্রমে আবির্ভাব ঘটে।