১। দেহ কাঠামো গঠনঃ কঙ্কালতন্ত্র দেহ কাঠামো গঠন করে এবং দেহের নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে।
২। সংরক্ষণঃ কঙ্কালতন্ত্র দেহের নরম অঙ্গ হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, মস্তিস্ক, সুষুষ্মাকান্ড প্রভৃতিকে রক্ষা করে।
৩। চলাচলঃ কঙ্কালতন্ত্র পেশীর সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে দেহের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
৪। লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনঃ রক্ত উৎপাদনকারী প্রধান টিস্যু হলো লাল অস্থিমজ্জা। করোটি, স্টার্নাম, বক্ষপিঞ্জর,কশেরুকা, হিউমেরাস ও ফিমারের অস্থিমজ্জা হতে লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়। অস্থিমজ্জা হতে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে প্রায় ২৬ লক্ষ লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়। লাল অস্থিমজ্জা থেকে অণুচক্রিকাও উৎপন্ন হয়।
৫। রোগ প্রতিরোধঃ অস্থির রেটিক্যুলো এন্ডোথেলিয়ালতন্ত্র দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৬। শ্বসন ও শ্রবণঃ বক্ষপিঞ্জর শ্বাস-প্রশ্বাসে এবং কর্ণাস্থি শ্রবণে সহায়তা করে।
৭। খনিজ লবণ সঞ্চয়ঃ কঙ্কালের অস্থি ক্যালসিয়াম, ফসফোরাস, পটাশিয়াম প্রভৃতি সঞ্চয় করে। দেহের প্রায় ৯৭% ক্যালসিয়াম অস্থিতে জমা থাকে।
৮। বিষাক্ত মৌল সঞ্চয়ঃ দেহে বিষাক্ত মৌল লেড, আর্সেনিক প্রভৃতি থাকলে অস্থি সেগুলো সঞ্চয় করে।
৯। সংযোগতল হিসেবেঃ পেশি, লিগামেন্ট ও টেনডনের সংযোগতল হিসেবে কাজ করে।
১০। চাপ ও আয়নিক সমতাঃ দেহের অভ্যন্তরিণ চাপ ও আয়নিক সমতা রক্ষা করে।
১১। হরমোনাল ক্রিয়াঃ অস্থিকোষ থেকে অস্টিওক্যালসিন হরমোন উৎপন্ন হয়। এই হরমোন রক্তে চিনি ও চর্বির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
১২। রাসায়নিক শক্তি সঞ্চয়ঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিছু লোহিত অস্থিমজ্জা পীত অস্থিমজ্জায় পরিনত হয়। পীত অস্থিমজ্জায় প্রচুর পরিমাণে অ্যাডিপোজ কোষ থাকে। অ্যাডিপোজ কোষ রাসায়নিক শক্তির আধার হিসেবে কাজ করে।