প্রতিটি হার্টবিট সম্পন্ন করতে হৃৎপিন্ডে পর পর যে সব ঘটনা সংঘটিত হয় সে গুলোর সমষ্টিকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। যদি প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হৃৎস্পন্দন হয় তবে কার্ডিয়াক চক্রের সময় কাল ৬০÷৭৫ = ০.৮ সেকেন্ড।
কার্ডিয়াক চক্রের ধাপ
হৃৎপিন্ডের কার্ডিয়াক চক্র চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এ গুলো হলো-
১। অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোলঃ এ সময় অলিন্দ দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা দুটি বন্ধ থাকে। অলিন্দ দুটির মধ্যবর্তী চাপ কমে যায়। ফলে দেহের উপরের অংশ হতে সুপিরিয়র ভেনাক্যাভা এবং নিচের অংশ হতে ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। একই সময়ে ফুসফুসীয় শিরার মধ্য দিয়ে O2 যুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.৭ সেকেন্ড।
২। অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়ামের সিস্টোলঃ এ সময় অলিন্দ দুটি সংকুচিত হয়। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায়। তবে সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ থাকে। অলিন্দ দুটির মধ্যবর্তী চাপ বেড়ে যায়। ফলে ডান অলিন্দ হতে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে এবং বাম অলিন্দ হতে O2 যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.১ সেকেন্ড। এর মধ্যে প্রথম ০.০৫ সেকেন্ড সঙ্কোচন সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকে। একে ডায়নামিক পর্যায় বলে। দ্বিতীয় ০.০৫ সেকেন্ড ক্ষীণতর হতে হতে প্রশমিত হয়। একে অ্যাডায়নামিক পর্যায় বলে।
৩। নিলয় বা ভেন্ট্রিকলের সিস্টোলঃ এ সময় নিলয় দুটি রক্তপূর্ণ অবস্থায় সংকুচিত হয়। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খোলা থাকে। নিলয় দুটির মধ্যবর্তী চাপ বেড়ে যায়। ফলে ডান নিলয় হতে CO2 যুক্ত রক্ত পালমোনারী ধমনীতে এবং বাম নিলয় হতে O2 যুক্ত রক্ত মহাধমনী বা অ্যাওর্টায় প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.৩ সেকেন্ড।
৪। নিলয় বা ভেন্ট্রিকলের ডায়াস্টোলঃ এ সময় নিলয় দুটি প্রসারিত বা শিথিল অবস্থায় থাকে। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খোলা থাকে। তবে সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ থাকে। নিলয় দুটির মধ্যবর্তী চাপ কমে যায়। ফলে ডান অলিন্দ হতে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে এবং বাম অলিন্দ হতে O2 যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.৫ সেকেন্ড।
একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোল-এর সমন্বয়ে প্রতি (০.৭+০.১=০.৮ অথবা ০.৩+০.৫= ০.৮) ০.৮ সেকেন্ডে একটি হৃৎস্পন্দন বা কার্ডিয়াক চক্র সম্পন্ন হয়। হৃৎস্পন্দনের সময় যে শব্দ শোনা যায় তাকে লাব-ডাব (Lub-dub) বলে।