কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশন ।। কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশন প্রক্রিয়ার কৌশল

১। প্যারেন্ট নির্বাচন (Parent selection)ঃ হাইব্রিডাইজেশনের প্রথম পদক্ষেপ হলো প্যারেন্ট নির্বাচন। প্যারেন্ট নির্বাচনের সময় খেয়াল রাখতে হবে উদ্ভিদটি যেন সুস্থ, সবল, রোগ মুক্ত ও উন্নত জাতের হয়। যেসব স্থানীয় প্রকরণে কাংক্ষিত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান সেসব উদ্ভিদ থেকে প্যারেন্ট নির্বাচন করা হয়। কাংক্ষিত প্যারেন্ট যদি স্থানীয় ভাবে না জন্মে তবে অন্য স্থান বা বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

২। প্যারেন্টের কৃত্রিম স্বপরাগায়ন (Self fertilization)ঃ প্যারেন্ট স্বপরাগী না হলে কৃত্রিম উপায়ে স্বপরাগায়ন ঘটানো হয়। এতে প্যারেন্ট উদ্ভিদ হোমোজাইগাস হয়। প্যারেন্ট হোমোজাইগাস হলে কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের মিলন ঘটানো সম্ভব হয়।

৩। প্যারেন্টের ইমাস্কুলেশন (Emasculation)ঃ পরিপক্ক হওয়ার আগেই পুষ্প হতে পুংকেশর অপসারণ বা মেরে ফেলাকে ইমাস্কুলেশন বলে। শুধু মাত্র উভয় লিঙ্গ ফুলে ইমাস্কুলেশন করা হয়। ইমাস্কুলেশনের উদ্দেশ্য হলো স্বপরাগায়ন বন্ধ করা। যে সব উদ্ভিদের ফুল খুবই ছোট তাদের ৪৮-৫৩ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় পানিতে ১-১৬ মিনিট ডুবিয়ে রেখে ইমাস্কুলেশন করা হয়। ধান, গম, ভূট্রা প্রভৃতি উদ্ভিদের ফুল গরম পানি অথবা অ্যালকোহলে ডুবিয়ে ইমাস্কুলেশন করা হয়।

৪। ব্যাগিং (Bagging)ঃ ক্রসের জন্য নির্বাচিত উদ্ভিদকে পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। একে ব্যাগিং বলে। ব্যাগিং এর কারণে অনাকাংক্ষিত পরাগায়ন ঘটার সম্ভবনা থাকে না। মাতৃ উদ্ভিদে ফল হওয়া পর্যন্ত ব্যাগ রাখা হয়। প্রয়োজনে সুই দিয়ে অতি সুক্ষ্ম ছিদ্র করা হয় যাতে বায়ু আসা-যাওয়া করতে পারে।

৫। ক্রসিং (Crossing)ঃ ব্যাগিং করা পুং উদ্ভিদ হতে পরাগরেণু সংগ্রহ করে ব্যাগিং করা ইমাস্কুলেটেড স্ত্রী উদ্ভিদের গর্ভমুন্ডে ফেলা হয়।  পরাগরেণু থেকে দুইটি শুক্রাণু সৃষ্টি হয়। শুক্রাণু দুটি ভ্রুণথলীতে প্রবেশ করে। ভ্রুণথলীতে শুক্রাণু দুটির মধ্যে একটি ডিম্বাণুর সাথে এবং অপরটি সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক এবং শুক্রাণু ও সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসের মিলনকে ত্রিমিলন বলে। নিষেক ও ত্রিমিলনকে একত্রে দ্বি-নিষেক বলে।

৬। লেবেলিং (Labeling)ঃ ইমাস্কুলেশনের তারিখ, ক্রসিং এর তারিখ এবং পুং ও স্ত্রী উদ্ভিদের পরিচিতি একটি কাগজে লিখে স্ত্রী উদ্ভিদে লাগিয়ে দেয়া হয়। একে লেবেলিং বলে।

৭। বীজ সংগ্রহ (Seed collection)ঃ হাইব্রিডাইজেশনের ফলে যে বীজ পাওয়া তাকে হাইব্রিড বা সংকর বীজ বলে। ফল পরিপক্ক হওয়ার পর বীজ সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করার পর বীজ পরিষ্কার করা হয়। অপরিপক্ক বীজ থাকলে তা ফেলে দেওয়া হয়। পরিপক্ক, উন্নত, বিশুদ্ধ এবং পরিষ্কার বীজ প্যাকেটজাত করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।

৮। বীজ বপন এবং F1 উদ্ভিদ সৃষ্টি (F1 plant)ঃ সংরক্ষিত বীজ পরবর্তী বছর বপন করা হয়। উৎপন্ন উদ্ভিদ গুলোকে F1 বংশধর বলা হয়। F1 বংশধর হলো প্যারেন্টের হাইব্রিড বা সংকর। F1 বংশধরে ফল পরিপক্ক হওয়ার পর বীজ সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করার পর বীজ পরিষ্কার করা হয়। পরিপক্ক, উন্নত, বিশুদ্ধ এবং পরিষ্কার বীজ প্যাকেটজাত করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।

৯। F1 বংশধর ব্যবহার এবং নতুন প্রকরণ সৃষ্টি (New varieties)ঃ F1 বংশধরের দুইটি উদ্ভিদের মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে F2 বংশধর সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে F3, F4, F5, F6 প্রভৃতি বংশধর সৃষ্টি করা হয়। এভাবে ৭-১০ বছরে একটি নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *