যে প্রক্রিয়ায় জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে বহুকোষী ভ্রুণ সৃষ্টি করে তাকে ক্লিভেজ বা সম্ভেদ বলে। ক্লিভেজ সম্পূর্ণ হলে তাকে হলোব্লাস্টিক এবং আংশিক হলে তাকে মেরোবøস্টিক বলে। ক্লিভেজের সময় ডিমের যে প্রান্তে কুসুম থাকে তাকে ভেজিটাল পোল এবং যে প্রান্তে নিউক্লিয়াস থাকে তাকে অ্যানিমেল পোল বলে।
পরিস্ফুটনের ভিত্তিতে ক্লিভেজ দুই ধরনের। এগুলো হলো-
(i) অনির্দিষ্ট ক্লিভেজ (Indeterminate cleavage)ঃ যে ভ্রæণীয় পরিস্ফুটনে ক্লিভেজের প্রাথমিক ধাপে উৎপন্ন প্রতিটি কোষ ভ্রুণ সৃষ্টির ক্ষমতা ধারণ করে তাকে অনির্দিষ্ট ক্লিভেজ বলে।
(ii) নির্দিষ্ট ক্লিভেজ (Determinate cleavage)ঃ যে ভ্রুণীয় পরিস্ফুটনে ক্লিভেজের প্রাথমিক ধাপে উৎপন্ন নির্দিষ্ট কোষ ভ্রæণ সৃষ্টির ক্ষমতা ধারণ করে তাকে নির্দিষ্ট ক্লিভেজ বলে।
বিভাজন তলের ভিত্তিতে ক্লিভেজ তিন ধরনের। এগুলো হলো-
(i) অরীয় ক্লিভেজ (Redial cleavage)ঃ যে ক্লিভেজ প্রক্রিয়ায় জাইগোটের কোষগুলো সুষম ও অরীয়ভাবে বিভক্ত হয় তাকে অরীয় ক্লিভেজ বলে। Arthropoda পর্বের প্রাণীদের অরীয় ক্লিভেজ ঘটে।
(ii) দ্বিপার্শ্বীয় ক্লিভেজ (Bilateral cleavage) ঃ যে প্রক্রিয়ায় জাইগোট দ্বিতীয় বিভাজন পর্যন্ত অরীয় এবং তৃতীয় বিভাজন থেকে মধ্যরেখা বরাবর অনুপ্রস্থভাবে ক্লিভেজ ঘটে তাকে দ্বিপার্শ্বীয় ক্লিভেজ বলে। এর ফলে চারটি করে দুই সারি কোষ সৃষ্টি হয়। Chordata পর্বের প্রাণীদের দ্বিপার্শ্বীয় ক্লিভেজ ঘটে।
(iii) সর্পিল ক্লিভেজ (Spiral cleavage)ঃ জাইগোটের অরীয় ও অনুপ্রস্থ বিভাজনের পর তৃতীয় বিভাজনের সময় অ্যানিমেল পোলের ব্লাস্টোমিয়ার গুলো ভেজিটাল পোলের ব্লাস্টোমিয়ারের সাথে চক্রাকারে সামান্য স্থান পরিবর্তন করলে তাকে সর্পিল ক্লিভেজ বলে। অ্যানিলিডা ও মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের সর্পিল ক্লিভেজ ঘটে।
ক্লিভেজ ও ভ্রুণীয় বিকাশের উপর ভিত্তি করে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম প্রাণীদের দুইটি দলে ভাগ করা হয়।
(i) প্রোটোস্টোমিয়া (Protostomia)ঃ প্রোটোস্টোমিয়া প্রাণীদের ক্লিভেজ সর্পিল ও নির্ধারিত ধরনের। এদের ভ্রুণীয় ব্লাস্টোপোর মুখছিদ্রে পরিনত হয়। যেমন- অ্যানিলিডা, আর্থ্রোপোডা ও মলাস্কা পর্ব।
(ii) ডিউটারোস্টোমিয়া (Deuterostomia)ঃ ডিউটারোস্টোমিয়া প্রাণীদের ক্লিভেজ সর্পিল ও অনির্ধারিত ধরনের। এদের ভ্রুণীয় ব্লাস্টোপোর পায়ুছিদ্রে পরিনত হয়। যেমন- একাইনোডার্মাটা ও কর্ডাটা পর্ব।