গ্লাইকোজেনের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, গঠন ও ব্যবহার ।। Glycogen

গ্লাইকোজেন হলো একটি পুষ্টিজাত জটিল হোমোপলিস্যাকারাইড। প্রাণীদেহের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য হলো গ্লাইকোজেন। মেরুদন্ডী প্রাণির যকৃত, পেশি, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীতে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত থাকে। তবে যকৃতে সবচেয়ে বেশি থাকে। মানুষের যকৃতে প্রায় ১০০-১২০ গ্রাম গ্লাইকোজেন থাকে। সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল এবং কতিপয় ছত্রাকে (ঈষ্ট) সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে গ্লাইকোজেন থাকে। গ্লাইকোজেনকে প্রাণীজ স্টার্চ বলা হয়। ফরাসি বিজ্ঞানী ক্লাউডি বারনার্ড (Claude Bernard, ১৮৫৭) গ্লাইকোজেন আবিষ্কার করেন।

 

গ্লাইকোজেনের বৈশিষ্ট্য /ধর্ম

(i) গ্লাইকোজেন হলো সাদা পাউডার জাতীয় জৈব রাসায়নিক পদার্থ।

(ii) ইহা পানিতে দ্রবণীয়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(iii) ইহা ঠান্ডা পানিতে সাসপেনসন গঠন করে।

(iv) এর আণবিক ওজন ৫০ লক্ষ ডাল্টন।

(v) একে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে প্রথমে মল্টোজ এবং পরে α গ্লুকোজে পরিনত হয়।

(vi) ইহা আয়োডিন দ্রবণের সাথে বিক্রিয়া করে লালচে বেগুনী বর্ণ ধারণ করে।

(vii) তাপ দিলে এর লাল বর্ণ দূর হয়ে যায়।

(viii) ঠান্ডা অবস্থায় ইহা কালো বর্ণে ফিরে আসে।

(ix) আংশিক আর্দ্র-বিশ্লেষিত হয়ে মল্টোজ এবং পূর্ণ আর্দ্র-বিশ্লেষিত হয়ে α-D গ্লুকোজে পরিনত হয়।

(x) ইহা গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজে পরিনত হয়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(xi) ইহা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে।

 

গ্লাইকোজেনের রাসায়নিক গঠন

গ্লাইকোজেন হলো একটি জটিল পলিস্যাকারাইড। ইহা অসংখ্য α-গ্লুকোজ অণু দ্বারা গঠিত। গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ৩০,০০০ অণু গ্লুকোজ মিলিত হয়ে গ্লাইকোজেন উৎপন্ন করে। গ্লুকোজ অণু গুলো α-1-4 গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে গ্লাইকোজেন গঠন করে। α-1-6 লিংকেজের মাধ্যমে গ্লাইকোজেনের শাখা সৃষ্টি হয়। এর প্রতিটি শাখায় ১০-২০টি গ্লুকোজ অণু থাকে। এদের আণবিক ওজন 106-107 ডাল্টন। গ্লাইকোজেনকে হাইড্রোলাইসিস করলে গ্লুকোজে পরিনত হয়। গ্লাইকোজেন প্রয়োজনে গ্লুকোজে পরিনত হয়ে কার্বন ও শক্তি সরবরাহ করে। এ জন্য গ্লাইকোজেনকে প্রাণিজ স্টার্চ বলা হয়।

 

গ্লাইকোজেনের ব্যবহার

(i) সঞ্চিত খাদ্যঃ গ্লাইকোজেন প্রাণীদেহে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে।

(ii) গ্লুকোজ উৎপাদনঃ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় যকৃতের গ্লাইকোজেন হতে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়।

(iii) পেশি শক্তিঃ কঙ্কাল ও হৃৎপেশিতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন পেশির অতিরিক্ত শক্তি প্রদান করে।

(iv) রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণঃ  ইহা দেহে রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। যকৃতের গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(v) সাসপেনশন তৈরীঃ ইহা পানিতে কলয়েড সাসপেনশন তৈরী করে।

(vi) সারফেকটেন্ট উৎপাদনঃ গর্ভধারণের ২৩ সপ্তাহ সময়ে ভ্রুণীয় শিশুর পালমোনারী কোষে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত হতে থাকে। সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ফুসফুসের সারফেকটেন্ট উৎপন্ন করে।

(vii) শক্তির আধারঃ প্রাণীর যকৃত কোষে গ্লাইকোজেন উৎপাদন ও সঞ্চয় ঘটে। ইহা প্রাণীদেহে গ্লুকোজ চক্রের গৌণ সঞ্চিত শক্তির আধার হিসেবে কাজ করে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(viii) মস্তিষ্কে শক্তির সরবরাহঃ মস্তিষ্কের কোষে সামান্য পরিমাণ গ্লাইকোজেন সঞ্চিত থাকে। ইহা সচেতন মস্তিষ্কের কাজে শক্তি যোগায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *