১। মানুষের রোগঃ মানুষের কলেরা (Vibrio cholerae), আমাশয় (Bacillus dysenteti), যক্ষ্মা (Mycobacterium tuberculosis), টাইফয়েড (Salmonella typhosa), হুপিংকাশি (Bordetalla pertussis), নিউমোনিয়া (Diplococcus pneumoniae), ডিপথেরিয়া (Corynebacterium diptheriae), সিফিলিস (Treponema pallidum), গনোরিয়া (Neisseria gonorrhoeae), মেনিনজাইটিস (Neisseria meningitidis), প্লেগ (Yersinia pestis), ধনুষ্টাংকার/টিটেনাস (Clostridium tetani), কুষ্ঠ (Mycobacterium leprae), অ্যানথ্রাক্স, আনডিউলেটেড জ্বর প্রভৃতি রোগ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।
২। মানুষের যৌনবাহিত রোগ (STD)ঃ যে সব রোগ যৌন মিলনের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে তাকে যৌনবাহিত রোগ বা Sexually transmitted diseases-STD বলে। যৌনবাহিত রোগ হলো গনোরিয়া ও সিফিলিস।
(i) গনোরিয়াঃ Neisseria gonorrhoeae ব্যাকটেরিয়ার কারণে গনোরিয়া রোগ হয়। নারী ও পুরুষের যৌন মিলনের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। যোনি, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে যৌন মিলন করলে এই রোগ এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। বহিঃযৌনাঙ্গের সংস্পর্শে রোগটি ছড়ায়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, ক্ষত অথবা চুম্বনের মাধ্যমে রোগের বিস্তার ঘটে। সংক্রমিত বিছানা, চাদর, পোষাক প্রভৃতি থেকে শিশুরা রোগাক্রান্ত হতে পারে। ঘনবসতি ও অপরিচ্ছন্নতা থেকে শিশুদের গনোরিয়া হতে পারে। এতে নারী এবং পুরুষ উভয়ই বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।
(ii) সিফিলিসঃ Treponema pallidum ব্যাকটেরিয়ার কারণে সিফিলিস রোগ হয়। নারী ও পুরুষের যৌন মিলনের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। যোনি, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে যৌন মিলন করলে এই রোগ এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, ক্ষত অথবা চুম্বনের মাধ্যমে রোগ ছড়ায়। রোগীর টয়লেট, বাথট্যাব, পোষাক, খাবার পত্র এবং সুইমিং পুল ব্যবহার করলে সিফিলিস হতে পারে। রোগাক্রান্ত মায়ের সন্তানের সিফিলিস হয়। ২১ দিনের মধ্যে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে ব্যক্তি বিশেষে ১০-৯০ দিনে প্রকাশ পেতে পারে।
৩। গবাদি পশুর রোগঃ গরু-মহিষের যক্ষ্মা (Mycobacterium bovis), অ্যানডিউলেটেড জ্বর, ভেড়ার এনথ্রাক্স (Bacillus anthracis), ছাগলের ব্রুসিলোসিস (Brucella suis), ইঁদুরের প্লেগ (Yersinia pestis), হাঁস-মুরগীর কলেরা (Bacillus avisepticus) প্রভৃতি রোগ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। ব্যাকটেরিয়া গবাদিপশুর ক্ষয়রোগ, হাঁস-মুরগীর রাণীক্ষেত এবং ঘোড়া, গাধা, ভেড়া ও ছাগলের রোগ সৃষ্টি করে।
৪। উদ্ভিদের রোগঃ গমের টুন্ডু রোগ (Agrobacterium tritici), ধানের ব্লাইট (Xanthomonas oryzae), আখের আঠাঝরা রোগ (Xanthomonas vasculorum), টমেটোর ক্যাংকার রোগ (Corynebacterium michiganese), টমেটো ও গোলাপের ক্রাউন গল (Agrobacterium tumefaciens), লেবুর ক্যাংকার রোগ (Xanthomonas citri), আলুর স্ক্যাব রোগ (Steptomyces scabies), আপেলের ফায়ার ব্লাইট (Erwinia amylovora), ভুট্রার বোটা পচা ও আলুর নরম পচা রোগ (Erwinia carotovora), তামাকের ব্লাইট (Pseudomonas tabacci), তুলার লিফ স্পট রোগ (Xanthomonas mavacearum), শিমের লিফ স্পট (Xanthomonus malvacearum) প্রভৃতি রোগ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এতে শস্যের ফলন অনেক কমে যায়।
৫। মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাস/ ডিনাইট্রিফিকেশনঃ Thiobacillus, Bacillus denitrificans ও Microbacillus ব্যাকটেরিয়া ডিনাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় মাটির নাইট্রেটকে ভেঙ্গে নাইট্রোজেন মুক্ত করে। এতে মাটিতে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের অভাব হয়। মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায় এবং ফসল উৎপাদন কমে যায়।
৬। খাদ্যদ্রব্য পচন ও বিষক্রিয়াঃ Clostridium botulinum, Staphylococcus, Pseudomonas, Acinetobacter, Bacillus প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া শাক-সবজি, ফলমুল, মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত দ্রব্য এবং অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য নষ্ট করে দেয়। Clostridium botulinum ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে বটিউলিন নামক বিষাক্ত পদার্থ সৃষ্টি করে। বটিউলিন মানুষের দেহে বটুলিজম নামের বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এতে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
৭। পানি দূষণঃ কলেরা, আমাশয় ও টাইফয়েড সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া গুলো রোগীর মলের মাধ্যমে পানির দূষণ ঘটায়। E. coli, Salmonella, Vibrio প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া পানি দূষণ করে।
৮। বায়োটেরোরিজমঃ আধুনিক যুগে ব্যাকটেরিয়াকে ক্ষতিকারক জীবাণু যুদ্ধে ব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকতে পারে। একে বায়োটেরোরিজম বলে। এটি মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরুপ।
৯। যানবাহনে দুর্ঘটনাঃ বিমানের জ্বালানিতে Clostridium জন্মালে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
১০। গৃহস্থলী বস্তুর ক্ষতিঃ Spirochete cytophaga ব্যাকটেরিয়া ঘরে ব্যবহৃত কাপড়, চামড়াজাত দ্রব্য ও আসবাবপত্রের ক্ষতিসাধন করে। Desulfovibrio লোহার পাইপে ক্ষত সৃষ্টি করে পানি সরবরাহে বিঘœ ঘটায়।
১১। ডিসালফিউরিকেশনঃ Desulfovibrio ব্যাকটেরিয়া ডিসালফিউরিকেশন প্রক্রিয়ায় মাটির সালফেট লবণকে ভেঙ্গে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস মুক্ত করে। এতে উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
১২। যানবাহনে দুর্ঘটনাঃ Clostridium ব্যাকটেরিয়া বিমানের জ্বালানিতে জন্মে। এতে বিমানের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।