ভাইরাসের উপকারী ভূমিকা

১। প্রতিষেধক টিকাঃ ভাইরাসঘটিত কতিপয় রোগের প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাক্সিন ভাইরাস থেকে তৈরী করা হয়। বসন্ত, পোলিও, জলাতষ্ক, জন্ডিস, কলেরা, প্লেগ, রক্ত আমাশয়, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের টিকা ভাইরাস থেকে তৈরী করা হয়।

২। ঔষধ হিসেবেঃ কলেরা, টাইফয়েড, রক্ত আমাশয় ও প্লে¬গ নামক ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগে কিছু কিছু ফাজ ভাইরাস ব্যবহৃত হয়।

৩। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসঃ ভাইরাস পরিবেশে বিদ্যমান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে  ধ্বংস করে আমাদের উপকার করে। ফায্ ভাইরাস E. coli ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

৪। ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমনঃ ভাইরাসের সাহায্যে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে Nuclear polyhydrosis virus-কে পতঙ্গ নাশক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

৫। গবেষণাঃ জীনতত্ত্বীয় এবং আণবিক জীববিজ্ঞানের গবেষণায় বর্তমানে ভাইরাস ব্যবহার হচ্ছে। জেনেটিক প্রকৌশলে ভাইরাস বাহক হিসেবে ব্যবহার হয়।

৬। ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিঃ ভাইরাসের আক্রমণে টিউলিপ ফুলে সাদা সাদা দাগ সৃষ্টি হয়। এতে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। একে ব্রোকেন টিউলিপ বলে। ব্রোকেন টিউলিপ ফুলের বাজার মুল্য বেশি।

৭। জীবতাত্ত্বি গবেষণায়ঃ ভাইরাস মাইক্রোবায়োলজি, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জিন প্রকৌশল গবেষণায় ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হয়।

৮। ব্যাকটেরিওফায থেরাপিঃ টাইফয়েড, কলেরা, রক্ত আমাশয়, প্লেগ প্রভৃতি রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ফায ভাইরাস ব্যবহার হয়।

৯। সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষাঃ ফায ভাইরাস সমুদ্রের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে বিপুল পরিমাণ CO2 মুক্ত করে। ইহা সমুদ্রের বাস্ত্রতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা করে। সমুদ্রের এক মিলিলিটার পানিতে এক লক্ষ ভাইরাস থাকে।

১০। জৈবিক নিয়ন্ত্রণঃ বর্তমানে বিশ^ব্যাপী জৈবিক নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় খরগোশ নিয়ন্ত্রণে মিক্সোভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে।

১১। বিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণেঃ ভাইরাস হলো জীববৈচিত্র্যের সর্ববৃহৎ আধার। ইহা জীব ও জড়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাই জীবের উৎপত্তি ও বিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনে ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *