নিষেকের পর জাইগোট ক্লিভেজ (cleavage) প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ব্লাস্টোমিয়ার (blastomere) সৃষ্টি করে। ব্লাস্টোমিয়ার কোষগুলো সজ্জিত হয়ে নিরেট মরুলা (morula) দশা গঠন করে। পরে মরুলা দশার কোষগুলো ফাঁপা ব্লাস্টুলা (blastula) সৃষ্টি করে। ব্লাস্টুলা কোষগুলো দ্বিস্তরী বা ত্রিস্তরী গ্যাস্ট্রুলায় (gastrula) পরিনত হয়।
বিজ্ঞানী Heinz Christian Pander ভ্রুণস্তর আবিষ্কার করেন। ভ্রুণস্তরের উপর ভিত্তি করে বহুকোষী প্রাণীদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(i) দ্বিস্তরী প্রাণী (Diploblastic animal)ঃ যে সব প্রাণীদের ভ্রুণে দুইটি স্তর থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। এদের ভ্রুণে এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম নামক দুটি স্তর থাকে। এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্মের মাঝে মেসোগিøয়া নামক অকোষীয় স্তর থাকে। Cnidaria পর্বের প্রাণীরা দ্বিস্তরী। যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris), জেলি ফিস (Aurelia aurita), ওবেলিয়া (Obelia geniculata) প্রভৃতি।
(ii) ত্রিস্তরী প্রাণী (Triploblastic animal)ঃ যে সব প্রাণীদের ভ্রুণে তিনটি স্তর থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। বাইরের স্তরটি এক্টোডার্ম, মাঝের স্তরটি মেসোডার্ম এবং ভিতরের স্তরটি এন্ডোডার্ম। Platyhelminthes, Nematoda, Mollusca, Annelida, Arthropoda, Echinodermata ও Chordata পর্বের প্রাণীরা ত্রিস্তরী।