মোলাস্কা পর্বের বৈশিষ্ট্য ।। Mollusca ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ল্যাটিন শব্দ molluscus অর্থ নরম নিয়ে Mollusca শব্দটি গঠিত। যে সকল প্রাণীর দেহ নরম, অপ্রতিসম বা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, খন্ডবিহীন, সিলোমযুক্ত, মাংসল পদবিশিষ্ট এবং বহিঃকঙ্কাল ক্যালসিয়াম কার্বনেট নির্মিত তাদেরকে মোলাস্কা বলে। মোলাস্কা প্রাণিজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্ব। তবে ইহা সামুদ্রিক বৃহত্তম পর্ব। সমুদ্রের ২৩% হলো মোলাস্কা। এই পর্বের প্রাণী থেকে মূল্যবান মুক্তা, টাইরিয়ান পার্পল ডাই, সি সিল্ক, চুন প্রভৃতি পাওয়া যায়। এ পর্বের জায়ান্ট স্কুইড লম্বায় ১২ মিটার এবং ওজন ২৭০ কেজি। স্থলবাসী শামুক (Achatina fulica) ও স্নাক ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে এবং শস্যের বালাই নামে পরিচিত। এ পর্বের প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ১,০০,০০০। Jonston (১৬৫০) Mollusca পর্বের নামকরণ করেন।

মোলাস্কা পর্বের বৈশিষ্ট্য
১। এদের দেহ নরম, মাংসাল এবং অখন্ডায়িত।
২। এরা সিলোমেট, অপ্রতিসম বা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং সুস্পষ্ট মস্তক বিশিষ্ট।
৩। দেহের অঙ্কীয় তলে পেশিযুক্ত মাংসাল পা থাকে।
৪। দেহ ম্যান্টল নামক পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত। ম্যান্টাল থেকে ক্ষরিত চুনময় পদার্থ খোলক গঠন করে।
৫। ফুলকা ও ম্যান্টাল পর্দা দ্বারা শ^সন ঘটে। স্থলচরদের ক্ষেত্রে পালমোনারী থলির বিকাশ ঘটে।
৬। পরিপাকতন্ত্রে কাইটিন নির্মিত রেতি-জিহ্বা বা র‌্যাডুলা থাকে।
৭। দেহগহŸর খুব সংক্ষিপ্ত এবং হিমোসিলে পরিনত হয়েছে। সংবহনতন্ত্র অর্ধমুক্ত ধরনের।
৮। পৌষ্টিক নালি সোজা, প্যাচানো অথবা U আকৃতির।
৯। রক্তে হিমোসায়ানিন (আমিষ ও কপার) ও অ্যামিবোসাইট কণিকা থাকে।
১০। সিলোম শুধু হৃদযন্ত্রের চার পাশে, জননাঙ্গের গহ্বরে এবং বৃক্কে সীমাবদ্ধ।
১১। একলিঙ্গ বা উভয় লিঙ্গ প্রাণী। এদের যৌনজনন ঘটে।
১২। জীবনচক্রে ট্রকোফোর, ভেলিজার বা গøচিডিয়াম লার্ভা থাকে।
১৩। এরা সমুদ্রের লবণাক্ত পানি, স্বাদু পানি, ডাঙ্গার বা গর্তে বাস করে।

[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ নরম দেহ, মস্তক, মাংসাল পা, ম্যান্টল, র‌্যাডুলা, হিমোসিল, হিমোসায়ানিন, ট্রকোফোর, ভেলিজার, গøচিডিয়াম]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *