দেহের ক্ষত স্থানে লোহিত রক্তকণিকা, শে^ত রক্তকণিকা, রক্তের তরল অংশ ও অন্যান্য উপাদান আটকে যায এবং রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। একে রক্ত জমাট বাঁধা বা রক্ত তঞ্চন বলে। রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে হিমোস্টেসিস বলে। হিমোস্টেসিস প্রক্রিয়ার ধাপগুলো হলো-
১। রক্ত নালিকার ভিতরে হেপারিন ও থ্রম্বোমডিউলিন থাকে বলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। দেহের কোথায়ও ক্ষত সৃষ্টি হলে রক্ত বাইরে বেরিয়ে আসে এবং ক্ষত স্থানে রক্তের অণুচক্রিকা বাতাসের সংস্পর্শে ভেঙ্গে যায়। অণুচক্রিকা ভেঙ্গে থ্রম্বোপ্লাস্টিন সৃষ্টি করে। থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তের হেপারিনকে নিষ্ক্রিয় বা অকেজো করে দেয়।
ক্ষত স্থানের কলা বিদীর্ণ ও অণুচক্রিকার ভাঙ্গন + বাতাস ——-→ থ্রম্বোপ্লাস্টিন
২। ক্যালসিয়াম আয়ন এবং VII, VIII, IX ফ্যাক্টর ও X এর উপস্থিতিতে থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তের নিষ্ক্রিয় প্রোথ্রম্বিনকে সক্রিয় থ্রম্বিনে পরিনত করে।
থ্রম্বোপ্লাস্টিন + Ca++ + প্রোথ্রম্বিন ———→ থ্রম্বিন
৩। সক্রিয় থ্রম্বিন রক্তের ফাইব্রিনোজেন প্রোটিনকে চিকন সুতার মতো ফাইব্রিন সূত্রকে পরিনত করে।
থ্রম্বিন + ফাইব্রিনোজেন —–→ ফাইব্রিন সূত্রক
৪। ফাইব্রিন সূত্রক গুলো পরস্পর মিলিত হয়ে ফাইব্রিন জালক গঠন করে। ফাইব্রিন জালক হলো ফাইব্রিন পলিমার।
ফাইব্রিন সূত্রক —–→ ফাইব্রিন জালক
৫। ফাইব্রিন জালকে লোহিত রক্তকণিকা, শে^ত রক্তকণিকা ও রক্তের তরল অংশ আটকে যায়। ফলে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়। লোহিত রক্তকণিকা আটকে যায় বলে রক্ত জমাটটি লালচে বর্ণের দেখায়।
ফাইব্রিন জালক + রক্তকণিকা আটক ———→ রক্ত জমাট বাঁধা
৬। রক্তবাহিকার পুনর্গঠন শুরু হলে প্লাজমিন এনজাইম ফাইব্রিন জালককে ধ্বংস করে দেয়। ফলে নতুন টিস্যু সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে ক্ষত পূরণ হয়ে যায়।