লসিকার কাজ কী কী । লসিকার উপাদান কী কী । লসিকার উৎপত্তি । Lymph। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ল্যাটিন শব্দ lympha থেকে lymph শব্দটি এসেছে। Lymph এর অর্থ clear water বা পরিষ্কার পানি । যে স্বচ্ছ ও ক্ষারীয় কলারস কোষে পুষ্টি সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজ করে তাকে লসিকা বলে। ইহা ঈষৎ হলুদ বা বর্ণহীন এবং কোষকে সিক্ত রাখে। এর আপেক্ষিক গুরুত্ব প্রায় ১.০১-১.০১৬ এবং pH ৭.৪-৯.০। লসিকার পরিমাণ প্রায় রক্তের দ্বিগুণ অর্থাৎ ১০-১২ লিটার। ইহা সর্বদা একমুখী ভাবে প্রবাহিত হয়।

লসিকার উৎপত্তি

রক্তরস বা প্লাজমা দেহ কোষে ইন্টারস্টিশিয়াল তরল হিসেবে অবস্থান করে। ইন্টারস্টিশিয়াল তরল লসিকা নালিতে প্রবেশ করে লসিকায় পরিনত হয়। লসিকা তৈরীর প্রক্রিয়াকে লিম্ফোজেনেসিস বলে।

লসিকার উপাদান

লসিকায় দুই ধরনের উপাদান থাকে। কোষীয় উপাদান এবং কোষবিহীন উপাদান।

১। কোষ উপাদানঃ লসিকার কোষীয় উপাদান হলো লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট। প্রতি ঘন মিলিলিটার রক্তে লিম্ফোসাইট থাকে ৫০০-৭৫,০০০।

২। অকোষীয় উপাদানঃ লসিকার অকোষীয় উপাদান হলো-

(i) পানিঃ লসিকায় ৯৪% পানি থাকে।

(ii) প্রোটিনঃ লসিকায় বিদ্যমান প্রোটিন হলো অ্যালবিউলিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, এনজাইম ও অ্যান্টিবডি।

(iii) লিপিডঃ লসিকায় কাইলোমাইক্রন হিসেবে ট্রাইগিøসারাইড ও ফসফোলিপিড থাকে। চর্বিযুক্ত খাবার খেলে লসিকায় ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং লসিকা দুধের মতো সাদা দেখায়। সাদা লসিকাকে কাইল বলে।

(iv) শর্করাঃ ১০০ মিলি লসিকায় শর্করা (গ্লুকোজ) থাকে ১২০-১৩২ গ্রাম।

(v) খনিজ উপাদানঃ লসিকায় ক্যালসিয়াল, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফোরাস, ক্লোরাইড ও বাই-কার্বনেট থাকে।

(vi) রেচন দ্রব্যঃ লসিকার রেচন দ্রব্য হলো ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন প্রভৃতি।

লসিকার কাজ

১। খাদ্যসার পরিবহনঃ  লসিকা অ্যামাইনো এসিড, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ফ্যাটি এসিড, গিøসারল প্রভৃতি কোষে পরিবহন করে।

২। অক্সিজেন পরিবহনঃ  লসিকা অক্সিজেনকে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে দেয়।

৩। কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনঃ ইহা কার্বন ডাই অক্সাইডকে দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে নিয়ে আসে।

৪। খাদ্য শোষণঃ  ইহা চর্বি জাতীয় খাবার শোষণ করে।

৫। ভিটামিন পরিবহনঃ  লসিকার মাধ্যমে ভিটামিন পরিবাহিত হয়।

৬। রোগ প্রতিরোধঃ ইহা অ্যান্টিবডি তৈরীর মাধ্যমে দেহকে রোগ প্রতিরোধী করে।

৭। জীবাণু ধ্বংসঃ  দেহে কোন জীবাণু প্রবেশ করলে লসিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে দেহকে রক্ষা করে।

৮। তাপমাত্রা সমতাঃ  রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র তাপের সমতা নিয়ন্ত্রিত হয়।

৯। লিপিড পরিবহনঃ  লসিকার মাধ্যমে লিপিড পরিবাহিত হয়।

১০। প্রতিরক্ষাঃ  লসিকায় লিম্ফোসাইট মনোসাইট থাকে। লিম্ফোসাইট মনোসাইট প্রতিরক্ষা অবদান রাখে।

১১। লিপিড পরিবহনঃ  লসিকার মাধ্যমে লিপিড পরিবাহিত হয়।

১২। দেহরসের পুনর্বন্টনঃ  লসিকা দেহের এক অংশ থেকে তরল পদার্থ অন্য অংশে পরিবহন করে। ফলে দেহ রসের পুনর্বন্টন ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq