১। দ্বিবিভাজন (By fission)ঃ এককোষী শৈবাল খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুইটি নতুন শৈবাল উৎপন্ন করে। যেমন- Chlorella, Euglena, Navicula, Diatom, Protococcus, Gloeocapsa, Synechococcus প্রভৃতি।
২। খন্ডায়ন (Segment)ঃ আঘাত অথবা ভৌত কারণে বহুকোষী শৈবালের ফিলামেন্ট ও কলোনী দুই বা ততোধিক খন্ডে পরিনত হলে প্রতিটি খন্ড হতে একটি করে নতুন শৈবাল সৃষ্টি হয়। যেমন- Ulothrix, Oedogonium, Spirogyra, Nostoc, Oscillatoria প্রভৃতি।
৩। মুকুল বা বাডিং (Budding)ঃ অনুকূল পরিবেশে শৈবাল খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং দেহের পার্শ্ব থেকে উপবৃদ্ধি সৃষ্টি হয়। এরপর উপবৃদ্ধি থেকে বাড বা মুকুল উৎপন্ন হয় এবং মুকুল মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন শৈবালের জন্ম দেয়। যেমন- Protosiphon.
৪। হর্মোগোনিয়া (Hormogonia)ঃ নীলাভ-সবুজ শৈবালের ট্রাইক্রোম খন্ডিত হয়ে হর্মোগোনিয়া সৃষ্টি করে। হর্মোগোনিয়াম পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে হর্মোসিস্ট গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে হর্মোগোনিয়া হতে নতুন শৈবাল উৎপন্ন হয়। যেমন- Nostoc, Oscillatoria প্রভৃতি।
৫। হরমোসিস্ট (Hormocysts)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে শৈবালের হর্মোগোনিয়াম পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে হরমোসিস্ট গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে হর্মোসিস্ট অংকুরিত হয়ে নতুন শৈবালের জন্ম দেয়। যেমন- Nostoc, Oscillatoria প্রভৃতি।
৬। টিউবার/বুলবিল (Tuber/Bulbil)ঃ কোন কোন শৈবালের পর্বে রাইজয়েডের উপরে ও নিচে খাদ্য জমা হয়ে টিউবার বা বুলবিল উৎপন্ন হয়। এ গুলো মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন শৈবাল গঠন করে। যেমন- Chara, Cladophora, Botrydium প্রভৃতি।
৭। অ্যাকিনিটি (Akinity)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে কিছু সূত্রাকার শৈবালের এক বা একাধিক কোষ প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে রেস্টিং স্পোরে পরিনত হয়। এসব কোষকে অ্যাকিনিটি বলে। প্রতিটি অ্যাকিনিটি অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন শৈবালে পরিনত হয়। যেমন- Nostoc, Oscillatoria, Pithophora, Ulothrix, Gloeotrichea, Revularia প্রভৃতি।
৮। স্টার্চ স্টার (Star stach)ঃ কোন কোন শৈবালের দেহে শ্বেতসার জমা হয়ে তারকাকার অঙ্গ গঠন করে। এদেরকে স্টার্চ স্টার বা অ্যামাইলাম স্টার বলে। পরে স্টার্চ স্টার হতে নতুন শৈবালের জন্ম হয়। যেমন- Chara, Botrydium প্রভৃতি।
৯। প্রোটোনেমা (Protonema)ঃ কোন কোন শৈবালের রাইজয়েড হতে সূত্রাকার প্রোটোনেমা উৎপন্ন হয়। এসব প্রোটোনেমা হতে নতুন শৈবাল জন্মে। যেমন- Chara, Nitella প্রভৃতি।