শৈবালের কোষীয় গঠন আলোচনা । Cellular structure of algae

১। কোষ প্রাচীরঃ শৈবালের কোষপ্রাচীর দু’স্তর বিশিষ্ট। বাইরের স্তরটি পেকটোজ এবং ভিতরের স্তরটি সেলুলোজ, পেকটিন বা মিউসিলেজ দ্বারা গঠিত। ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবালে কোষপ্রাচীর থাকে না। ডায়াটম শৈবালের কোষপ্রাচীর সিলিকাময় দুইটি কপাটিকা দ্বারা গঠিত। একটি পূর্ণাঙ্গ ডায়াটমের সিলিকাময় কোষপ্রাচীরকে ফ্রুস্টিউল বলে। Euglenophyta-তে কোষপ্রাচীরের পরিবর্তে পেরিব্লাস্ট নামক পর্দা থাকে।

২। প্লাজমাপর্দাঃ কোষপ্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত সুক্ষ্ম ও পাতলা পর্দাকে প্লাজমাপর্দা বলে। ইহা লিপিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট শৈবালের প্লাজমাপর্দা দৃঢ় প্রকৃতির হয়। এরুপ প্লাজমা পর্দাকে পেরিপ্লাস্ট বলে।

৩। প্রোটোপ্লাজমঃ কোষ প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত কোষের সকল সজীব অংশকে একত্রে প্রোটোপ্লাজম বলে। ইহা দু’টি অংশ নিয়ে গঠিত। সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।

(i) সাইটোপ্লাজমঃ সাইটোপ্লাজমের বিভিন্ন অঙ্গাণু গুলো নিম্নরুপ।

প্লাস্টিডঃ  প্লাস্টিড   হলো রঞ্জক  পদার্থ।  সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের সাথে নীল বর্ণের ফাইকোসায়ানিন, লাল বর্ণের ফাইকোএরিথ্রিন, বাদামী বর্ণের ফিওফাইনিন এবং হলুদ-বাদামী বর্ণের ফিউকোজ্যান্থিন থাকে। এরা সালোকসংশ্লেষণ ঘটায়।

পাইরিনয়েডঃ পাইরিনয়েড হলো প্রোটিনের পুঞ্জিভূত অংশ। ক্লোরোপ্লাস্টে এক বা একাধিক পাইরিনয়েড থাকে। ইহা শর্করা জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে।

কোষ গহ্বরঃ প্রতিটি কোষে ছোট ছোট কোষ গহ্বর থাকে। ইহা কোষরস দ্বারা পূর্ণ থাকে।

সঞ্চিত খাদ্যঃ সবুজ শৈবালে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে শর্করা বা স্টার্চ বা শ্বেতসার জমা থাকে। বাদামী শৈবালে ল্যামিনারিন ও ম্যানিটল, সোনালী-হলুদ শৈবালে ভলিউটিন ও চর্বি এবং লোহিত শৈবালে ফ্লোরিডিয়ান স্টার্চ সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে। কোনো কোনো শৈবালে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে লিউকোসিন ও প্যারামাইলাম থাকে।

(ii) নিউক্লিয়াসঃ শৈবালের প্রতিটি কোষে এক বা একাধিক সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। ইহা কোষের সকল জৈবিক কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।

সিনোসাইটিক শৈবালের দেহ নলাকার, শাখান্বিত, প্রস্থ প্রাচীরবিহীন এবং বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত। অ্যাসিনোসাইটিক শৈবালের দেহ প্রস্থ প্রাচীরযুক্ত এবং কোষে এক বা একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *