স্পিরোলিনা হলো সবুজ শ্যাওলা বা শৈবাল যা খাল-বিল বা পানিতে জন্মে। সাগরের তলদেশে সামুদ্রিক শৈবাল নামে পরিচিত। বিশ্রি জাতীয় এই সবুজ শ্যাওলাটি আমাদের স্বাস্থের জন্য অনেক অনেক উপকারী। একে প্রোটিনের বিরাট উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
স্পিরুলিনার বৈশিষ্টঃ স্পিরুলিনার ব্যাপক মাত্রায় শরীরের রেডিয়েশন ইনভোলভমেন্ট বাধা দেয়। জাপানিদের বেশিদিন বেঁচে থাকার একমাত্র জাদুকাঠি হলো সবুজ শ্যাওলা বা স্পিরুলিনা। জাপানে এটি নড়ি নামে পরিচিত। জাপানিরা খাবারের সময় প্রচুর পরিমাণে স্পিরুলিনা খায়।
রোগ প্রতিরোধে স্পিরুলিনারভূমিকাঃ বাজারে স্পিরুলিনা ট্যাবলেট, ক্যাপসুলও পাউডাররূপে পাওয়া যায়। এছাড়া চা পাতি বা রুটি, আলুভর্তা, নুডলস্, শরবত, হালুয়া ইত্যাদিতে স্পিরুলিনা মিশিয়ে নানা খাবার তৈরি করা সম্ভব।
উপকারিতা ও গুণাবলি
১। ৬০-৬৩% উদ্ভিজ্জ আামিষ স্পিরুলিনায় আছে যা মাংসের চাইতে ৩-৪ গুণ বেশি।
২। স্পিরুলিনায় অধিক পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও খণিজ পদার্থ থাকে।
৩। প্রতিদিন সাধারনণ খাবার হিসেবে ইহা খাওয়া যায়।
৪। মুল্যবান ভেষজ হিসেবে স্পিরুলিনার চাহিদা রয়েছে।
৫। ইহা দেহে প্রচুর পরিমাণে শক্তি যোগায় ।
৬। সাইক্লিস্ট ও অ্যাথলেটিকসদের জন্য স্পিরুলিনা উপকারী খাবার।
৭। ইহা একটি শক্তিবর্ধক সম্পূরক খাদ্য।
৮। ইহা নিয়মিত খেলে দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, বাত, হেপাটাইটিস ও ক্লান্তি দূর করে।
৯। স্পিরুলিনার প্রায় ৫০% আমিষ।
১০। দিনে মাত্র ১০ গ্রাম স্পিরুলিনা খেয়ে দৈনিক আমিষ চাহিদার ৭০% মেটানো সম্ভব।
১১। পেশিকলা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে স্পিরুলিনা ।
১২। এটি পরিশ্রম করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ওজনও রাখে নিয়ন্ত্রণে।
১৩। সবুজ শ্যাওলাতে ৬০% এর মত সব ভেজিটেবলের প্রোটিন আছে।
১৪। ইহা প্রোটিন যুক্ত খাবারের (মাছ, মাংস, দুধ,ডিম) চাহিদা পূরণ করতে পারে।
সতর্কতা
শুকনা ও পরিষ্কার পাত্রে স্পিরুলিনা রাখতে হবে। বাতাস বা পানির সংস্পর্শে শুকনা স্পিরুলিনা খাওয়া যাবে না। বেশি মাত্রায় লৌহ ও ভিটামিনের কারণে ব্যবহারকারীর স্পিরুলিনা সহ্য না হলে স্পিরুলিনা খাওয়ার মাত্রা বা পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে।