হাইডাথোড কী।। পানি পত্ররন্ধ্র কী ।। Hydathods কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

উদ্ভিদের পাতার কিনারা বরাবর অবস্থিত যে রন্ধ্রের মধ্য দিয়ে পানি তরল আকারে নির্গত হয় তাকে হাইডাথোড বলে। পানি তরল আকারে নির্গত হওয়াকে গ্যাটেশন বা পানি নির্গমন বা পানি চোয়ানো বলে। হাইডাথোড গুলো দিনের চেয়ে রাতে বেশি কার্যকর থাকে। উদ্ভিদের পাতার কিনারা বরাবর হাইডাথোড অবস্থান করে। এজন্য ভোরে পাতার কিনারায় বিন্দু বিন্দু পানি দেখা যায়। ঘাস, কচু, টমেটো, কচুরিপানা, স্ট্রবেরী, প্রিমুলা, গোলাপ, ব্যালসাম, Ranunculus fluitans, Campanula rotundifolia প্রভৃতি উদ্ভিদে হাইডাথোড থাকে। ১৯৬৫ সালে ইসাও (Esau) পত্ররন্ধ্র বা পানিরন্ধ্র বা পানি গ্রন্থি নামকরণ করেন।
পানি পত্ররন্ধ্র দুই প্রকার। নিষ্ক্রিয় এবং সক্রিয় হাইডাথোড। নিষ্ক্রিয় হাইডাথোড দিয়ে পানি নিষ্ক্রিয় ভাবে এবং সক্রিয় হাইডাথোড দিয়ে সক্রিয় ভাবে পানি নির্গত হয়।
হাইডাথোড যে কোষ দ্বারা গঠিত তাকে এপিথেম বলে। পানি পত্ররন্ধ্র একগুচ্ছ জীবিত কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো পানিপূর্ণ এবং আন্তঃকোষীয় ফাঁকবিশিষ্ট। কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্ট নাই বললেই চলে। প্রতিটি হাইডাথোডে এক বা একাধিক রন্ধ্র থাকে। এর রন্ধ্রপথটি গাঠনিক ভাবে পত্ররন্ধ্রের মতো। তবে আকারে কিছুটা বড় এবং নড়নে অক্ষম। এতে এক বা একাধিক প্রকোষ্ঠ থাকে। প্রকোষ্ঠগুলো বায়ুকুঠুরী বা শ্বাসকুঠুরীতে উন্মুক্ত হয়। রন্ধ্রের নিচে একটি পানি গহ্বর (water cavity) থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *