ক্রসিংওভার প্রক্রিয়া বর্ণনা, হোয়াইট হাউস মডেল  ।। White House Model

হোয়াইট হাউস মডেল অনুযায়ী ক্রসিংওভার চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এ গুলো হলো-

১। সিন্যাপসিসঃ যে প্রক্রিয়ায় হোমোলোগাস ক্রোমোসোম গুলো জোড়া বাঁধে তাকে সিন্যাপসিস বলে। এ পর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোসোম গুলোর মধ্যে আকর্ষণ পরিলক্ষিত হয়। হোমোলোগাস ক্রোমোসোম গুলো পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং দৈর্ঘ্য বরাবর জোড়া বাঁধে। হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়াকে সিন্যাপসিস বলে। প্রতি জোড়া ক্রোমোসোমকে বাইভেলেন্ট বলে।

২। ক্রোমোসোমের ডুপ্লিকেশনঃ বাইভেলেন্টের প্রতিটি ক্রোমোসোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত লম্বালম্বি ভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে। ফলে প্রতিটি বাইভেলেন্টে চারটি করে ক্রোমাটিড সৃষ্টি হয়। এ অবস্থাকে টেট্রাড বলে। একই ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটিকে সিস্টার ক্রোমাটিড এবং ভিন্ন ভিন্ন ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটিকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।

৩। দেহ অংশের বিনিময়ঃ বাইভেলেন্টের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং X আকৃতির কায়াজমা গঠন করে। কায়াজমা অংশে এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইমের প্রভাবে ক্রোমাটিডগুলো ভেঙ্গে যায়। লাইগেজ এনজাইমের সহায়তায় একটি ভাঙ্গা ক্রোমাটিড অপর একটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের সাথে যুক্ত হয়। এ ভাবে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে। একে ক্রসিংওভার বলে।

৪। প্রান্তীয়করণঃ ক্রসিংওভার সম্পন্ন হওয়ার পর বাইভেলেন্টের ক্রোমোসোমের মধ্যে বিকর্ষণ শুরু হয়। ক্রোমোসোম গুলো পরস্পর হতে দূরে সরে যায়। কায়াজমা গুলো ধীরে ধীরে প্রান্তের দিকে সরে যেতে থাকে। একে Terminalization বা প্রান্তীয়করণ বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *