ল্যাটিন শব্দ porous অর্থ ছিদ্র এবং ferro অর্থ বহনকারী নিয়ে Porifera শব্দটি গঠিত। এদেরকে ছিদ্র বহনকারী প্রাণি বলা হয়। এ পর্বের প্রাণীরা স্পঞ্জ নামে পরিচিত। এই পর্বের প্রাণীদেরকে লিভিং পাম্প (living pump) বলা হয়। এ পর্বের প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ৮,৬৫৯টি। Robert Grant (১৮৩৬) এ পর্বের নাম দেন Porifera।
পরিফেরা পর্বের বৈশিষ্ট্য
১। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী এবং চলাচলে অক্ষম।
২। এদের দেহ প্রাচীরে অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্র আছে।
৩। দেহে কোয়ানোসাইট নামক ফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোষ আছে।
৪। দেহে স্পঞ্জোসিল বা প্যারাগ্যাস্ট্রিক নামক গহŸর আছে। প্রতিটি স্পঞ্জোসিলে অসক্যুলাম নমক একটি করে ছিদ্র পথ থাকে।
৫। দেহে সুগঠিত কলা, অঙ্গ বা তন্ত্র নাই।
৬। এদের দেহে নালিকা তন্ত্র আছে। ক্যানাল সিস্টেম তিন ধরনের। অ্যাসকন টাইপ, সাইকন টাইপ এবং লিউকন টাইপ। ইহা শ্বসন ও পানি প্রবাহের কাজ করে।
৭। স্পিকিউল বা স্পঞ্জতন্তু দ্বারা অন্তঃকংকাল গঠিত। স্পিকিউল চুন দ্বারা এবং স্পঞ্জি কোলাজেন প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
৮। দেহ প্রাচীরে ৩টি স্তর থাকে। বাইরের দিকে পিনোকোডার্ম, মাঝখানে মেসেনকাইম এবং ভিতরে কোয়ানোডার্ম।
৯। দেহ প্রাচীরের মাঝখানের মাতৃকায় মেসোহিল নামক জিলাটিনাস প্রোটিন থাকে। এই মাতৃকা অ্যামিবোসাইট এবং কঙ্কাল বস্তু ধারণ করে।
৯। অস্টিয়া পথে পানি স্রোতের মাধ্যমে খাদ্য, অক্সিজেন ও শুক্রাণু প্রবেশ করে।
১০। এরা উভয়লিঙ্গ এবং যৌন ও অযৌন জনন ঘটে। কুঁড়ি বা গেমিউল দ্বারা অযৌন জনন ঘটে।
১১। জীবনচক্রে অ্যাম্ফিব্লাস্টুলা অথবা প্যারেনকাইমুলা লার্ভা দেখা যায়।
[বৈশিষ্ট্য মুখস্ত রাখার প্রধান শব্দঃ অস্টিয়া, কোয়ানোসাইট, স্পঞ্জোসিল, ক্যানাল সিস্টেম, স্পিকিউল, মেসোহিল অ্যাম্ফিব্লাস্টুলা, প্যারেনকাইমুলা]