ফ্রুক্টোজ হলো ছয় কার্বনবিশিষ্ট একটি মনোস্যাকারাইড। ইহা একটি রিডিউসিং শ্যুগার। এতে একটি কিটো গ্রুপ থাকে বলে একে কিটোহেক্সোজ বলে। ফ্রুক্টোজ সর্বপ্রথম ফল বা Fruit থেকে শনাক্ত করা হয়েছিল বলে এরুপ নামকরণ করা হয়েছে। আখ, বীট, পাঁকা ফল, নেকটার এবং মধুতে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে। পাঁকা ফলে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে বলে একে Fruit sugar বা ফলের শর্করা বা লেভুলোজ বলা হয়। এর আপেক্ষিক মিষ্টতা ১৭৩। উদ্ভিদদেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে। ১৮৪৭ সালে Augustin Pierre Dubrunfaut ইহা আবিষ্কার করেন। বিশ্বে প্রতিবছর ২,৪০,০০০ টন ফ্রুক্টোজ উৎপাদন করা হয়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ফ্রুক্টোজের বৈশিষ্ট্য /ধর্ম
(i) ফ্রুক্টোজ একটি সরল শর্করা।
(ii) ইহা সাদা দানাদার পদার্থ।
(iii) এটি মিষ্টি স্বাদ যুক্ত।
(iv) ইহা পানিতে দ্রবণীয়।
(v) ইহা গরম অ্যালকোহলে দ্রবণীয়।
(vi) এতে কিটো গ্রুপ থাকে।
(vii) একে কিটোজ সুগার বলা হয়।
(viii) ইহা একটি বিজারক শর্করা।
ফ্রুক্টোজের ব্যবহার
(i) মিষ্টি তৈরীতে ফ্রুক্টোজ ব্যবহার হয়।
(ii) বেভারেজ, কেক, জুস প্রভৃতি তৈরীতে ব্যবহার হয়।
(iii) ইহা শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
(iv) ইহা অসুস্থ মানুষের উপাদেয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।
(v) ডায়াবেটিস রোগীর ইক্ষু শর্করার বিকল্প হিসেবে ফ্রুক্টোজ ব্যবহার হয়।
(vi) ইহা ফসফোরিক এসিডের সাথে যুক্ত হয়ে এস্টার গঠন করে।
(vii) ইহা কালচার মিডিয়াম তৈরীতে ব্যবহার হয়।
(viii) পুরুষের বীর্যে ফ্রুক্টোজ থাকে। তাই মাহিলাদের জননাঙ্গে ফ্রক্টোজের উপস্থিতি পরীক্ষা করে যৌন হয়রানি প্রমাণ করা যায়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ফ্রুক্টোজের রাসায়নিক গঠন
ফ্রুক্টোজ হলো ছয় কার্বন বিশিষ্ট একটি রাসায়নিক যৌগ এবং এর আণবিক সংকেত C6H12O6। -OH গ্রুপের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ফ্রুক্টোজ দুই ধরনের হতে পারে। এ গুলো হলো D ও L ফ্রুক্টোজ। ফ্রুক্টোজের ৫নং কার্বনের -OH গ্রুপটি ডান দিকে থাকলে তাকে dextrorotatory বা D ফ্রুক্টোজ এবং ফ্রুক্টোজের ৫নং কার্বনের -OH গ্রুপটি বাম দিকে থাকলে তাকে Laevorotatory বা L ফ্রুক্টোজ বলে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স