TMV হলো একটি উদ্ভিদ ভাইরাস। সর্বপ্রথম ১৮৮৬ সালে হল্যান্ডের বিজ্ঞানী অ্যাডলফ মায়ার (Adolf Mayer) তামাক পাতার ছোপ ছোপ মোজাইক রোগ দেখতে পান। ১৮৯৮ সালে বিজ্ঞানী বেইজেরিংক তামাক পাতার জীবাণুর নাম দেন টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV)। ১৯৩৫ সালে বিজ্ঞানী স্ট্যানলি (W. M. Stanley) তামাকের TMV–কে পৃথক করে কেলাসিত করেন। ১৯৫৭ সালে বিজ্ঞানী স্মিথ TMV এর আরেক নাম দেন Nicotiana virus-1.
টোবাকো মোজাইক ভাইরাসের গঠন
TMV এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ। প্রস্থ ১৫–১৮ nm এবং দৈর্ঘ্য ২৮০–৩০০ nm। ইহা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। নিউক্লিক এসিড এবং ক্যাপসিড।
১। নিউক্লিক এসিডঃ ভাইরাসের কেন্দ্রে নিউক্লিক এসিডের যে কোর থাকে তাকে নিউক্লিওয়েড বলে। এর কেন্দ্রে এক সূত্রক প্যাঁচানো RNA থাকে। RNA-এর প্যাচের মধ্যে চোঙ্গাকৃতির গহ্বরের ব্যাস 4nm । TMV–তে RNA এর পরিমাণ ৫%। RNA সূত্রটি ৬৫০০টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। এর আণবিক ওজন ২.৪ মিলিয়ন ডাল্টন। ইহা ভাইরাসের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং নতুন ভাইরাস সংশ্লেষণে ভূমিকা পালন করে।
২। ক্যাপসিডঃ নিউক্লিক এসিডের বাইরে যে কোট বা আবরণী থাকে তাকে ক্যাপসিড বলে। ইহা অসংখ্য প্রোটিন অণু দ্বারা গঠিত। এতে প্রোটিনের পরিমাণ ৯৫%। ক্যাপসিডের প্রতিটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলে। TMV–তে ২১৩০–২২০০টি ক্যাপসোমিয়ার থাকে। প্রতিটি ক্যাপসোমিয়ার ১৫৮টি অ্যামাইনো এসিড দ্বারা গঠিত। প্রতিটি প্রোটিন সাব ইউনিটের আণবিক ওজন ১৭০০০ ডাল্টন। ক্যাপসিড অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে এবং এসিড কোরকে রক্ষা করে।