উদ্ভিদের স্বাভাবিক অঙ্গজ প্রজনন

(i) খন্ডায়ন (Fragmentation)ঃ Spirogyra, Oscillatoria, Oedogonium, Ulothrix প্রভৃতি খন্ডায়নের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।

(ii) মূল দ্বারা (By roots)ঃ পটল, ডালিয়া, কাঁকরোল, শতমূলী, মিষ্টি আলু, রাঙ্গা আলু প্রভৃতি উদ্ভিদ মূল দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে।

(iii) কান্ড দ্বারা (By stem)ঃ পিঁয়াজ ও রসুন বাল্ব দ্বারা, আদা, হলুদ, সটি, বচ, ওলকচু প্রভৃতি রাইজোম দ্বারা এবং আলু টিউবার দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে। ওলকচু, সটি প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। আবার  পুদিনা, বাঁশ, কলা, চন্দ্রমল্লিকা, আনারস প্রভৃতি উদ্ভিদ সাকার নামক বিশেষ ধরনের কান্ড দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে।

(iv) পাতা দ্বারা (By leaf)ঃ পাথরকুচি উদ্ভিদের পাতা থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। নাইট কুইন পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।

(v) মুকুলোদগম (Budding)ঃ ঈস্ট নামক এককোষী ছত্রাক মুকুল সৃষ্টি করে সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

(vi) কক্ষমুকুল বা বুলবিল (By bulbil)ঃ কোন কোন উদ্ভিদ বুলবিল বা কক্ষমুকুল দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে। যেমন- চুপড়ি আলু, কন্দপুষ্প, এগেভ প্রভৃতি।

(vii) অর্ধবায়বীয় কান্ড দ্বারা (By sub-aerial stem)ঃ কচু, স্ট্রবেরী প্রভৃতি রানার দ্বারা; কলা, পুদিনা, আনারস, চন্দ্রমল্লিকা, বাঁশ প্রভৃতি সাকার দ্বারা; আমরুল স্টোলন দ্বারা এবং কচুরিপানা, টোপাপানা প্রভৃতি অফসেট দ্বারা সংখ্যা বৃদ্ধি করে। থানকুনি, কলমিলতা, শুশনি শাক, মেন্থা  প্রভৃতি অর্ধবায়বীয় কান্ড দ্বারা সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

(viii) পর্ণকান্ড দ্বারাঃ ফণিমনসার পর্ণকান্ড হতে নতুন গাছ হয়।

(ix) টিউরিয়ন (By tiurian)ঃ উদ্ভিদের স্ফীত মুকুলকে টিউরিয়ন বলে। টিউরিয়নে ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সঞ্চয় থাকে। ইহা শীতকালে বিশ্রাম দশায় থাকে এবং বসন্তের আগমনে অংকুরিত হয়ে অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। জলজ উদ্ভিদ টিউরিয়ন দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে। যেমন- Potamogeton, Utricularia প্রভৃতি।

(x) ভূ-নিম্নস্থ কান্ডঃ আদা, হলুদ, পেঁয়াজ, আলু প্রভৃতি উদ্ভিদ ভূ-নি¤œস্থ কান্ড দ্বারা সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

(xi) বায়বীয় কান্ড (By aerial stem)ঃ কন্দপুষ্প, আখ, চুপড়ী আলু প্রভৃতি উদ্ভিদ বায়বীয় কান্ড দ্বারা বংশ বৃদ্ধি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq