ক্রোমোজোমের ভৌত গঠন (Physical Structure of Chromosome)
একটি আদর্শ ক্রোমোজোমে যে সব অংশ দেখা যায় তা নিম্নরুপ
১। পেলিকল ক্রোমোজোম যে আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে তাকে পেলিকল। আধুনিক গবেষণায় পেলিকলের কোন অস্তিস্ক পাওয়া যায় নাই।
২। মাতৃকাঃ পেলিকলের ভিতরে যে তরল পদার্থ থাকে তাকে মাতৃকা বলে। কিন্তু আজ পর্যন্ত মাতৃকার অস্তিস্ক পাওয়া যায় নাই।
৩। ক্রোমাটিনঃ প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বি ভাবে বিভক্ত হয়ে দুইটি সুতার মতো গঠন সৃষ্টি করে। এদেরকে ক্রোমাটিন বলে। ইহা প্রাথমিক ভাবে ১১ nm পুরু এবং পর্যায়ক্রমে ৩০ nm, ৩০০ nm এবং ৭০০ nm পুরু হয়ে থাকে। Heit (১৯২৮) ক্রোমাটিন তন্তুকে দু’টি ভাগে ভাগ করেন। যথা- হেটারোক্রোমাটিন এবং ইউক্রোমাটিন।
৪। ক্রোমোনেমাঃ প্রতিটি ক্রোমাটিড লম্বালম্বি ভাবে বিভক্ত হয়ে দুইটি করে সূত্রাকার গঠন সৃষ্টি করে। একে ক্রোমোনেমা বলে। বিজ্ঞানী Vejdovsky (১৯২১) এদের ক্রোমোনেমা নামে আভিহিত করেন। প্রতিটি ক্রোমোনেমা ২৬টি অথবা ৩২টি অনুসূত্র দ্বারা গঠিত। তবে ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী ডু’প্র প্রমাণ করেন, ক্রোমোনেমায় কোন অনুসূত্র থাকে না।
৫। সেন্ট্রোমিয়ারঃ ক্রোমোজোমে যে গোলাকার, বর্ণহীন ও সংকুচিত স্থান থাকে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে। প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ারে একটি ছোট গাঠনিক অবকাঠামো থাকে যাকে কাইনেটোফোর বলে। প্রতিটি ক্রোমোজোমে একটি মাত্র সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। তবে কোন কোন ক্রোমোজোমে দুই বা ততোধিক সেন্ট্রোমিয়ার থাকতে পারে।
৬। সেকেন্ডারী কুঞ্চনঃ ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার ছাড়া আরও এক বা একাধিক সংকুচিত স্থান থাকে। একে সেকেন্ডারী কুঞ্চন বলে। SAT (Sine Acid Thymonucleic) নামক সেকেন্ডারী কুঞ্চন নিউক্লিওলাস গঠন করে।
৭। ক্রোমোমিয়ারঃ ক্রোমোজোমে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুটিকা দেখা যায় তাকে ক্রোমোমিয়ার বলে।
৮। বাহুঃ সেন্ট্রোমিয়ারের উভয় পাশের অংশকে বাহু বলে। ক্রোমোজোমের বাহু দু’টি সমান অথবা অসমান হতে পারে।
৯। সেটেলাইটঃ ক্রোমোজোমের সেকেন্ডারী কুঞ্চন সংলগ্ন ক্ষুদ্র অংশটিকে সেটেলাইট বলে। এ ধরনের ক্রোমোজোমকে স্যাট ক্রোমোজোম বলে। যেমন- ছোলার ১ নং ক্রোমোজোমে স্যাটেলাইট থাকে।
১০। টেলোমিয়ারঃ বিজ্ঞানী এইচ. জে. মুলার ক্রোমোজোমের প্রান্তদেশে একটি বিন্দুর অবস্থান কল্পনা করেন। একে টেলোমিয়ার বলে। টেলোমিয়ারের কারনে ক্রোমোজোমের বাহু দু’টি কখনো একত্রে হতে পারে না।