ফসফোলিপিড (Phospholipid)

যে সব লিপিড ফ্যাটি এসিড, গিøসারল ও ফসফেট দ্বারা গঠিত তাদেরকে ফসফোলিপিড বলে। এর গাঠনিক উপাদান হলো ফসফোটাইডিক এসিড। ফসফোলিপিডের ফসফেট গ্রুপটি কোলিন দ্বারা এস্টারীভূত হলে লেসিথিন এবং সেরিন হাইড্রোক্সিল দ্বারা এস্টারীভূত হলে সেফালিন উৎপন্ন হয়। লেসিথিন হলো প্রথম শনাক্তকারী ফসফোলিপিড। ফসফোলিপিড হলো-লেসিথিন, সেফালিন, প্লাজমালোজেন, কোলিন, সিরিন, কার্ডিওলিপিন, স্ফিংগোমায়োলিন ইত্যাদি।
ফসফোলিপিড তিন ধরনের। এগুলো হলো-
(i) ফসফোগিøসারাইডঃ যে ফসফোলিপিড গিøসারল, ফ্যাটি এসিড ও ফসফোরিক এসিড দ্বারা গঠিত তাকে ফসফোগিøসারাইড বলে। ইহা কোষ পর্দায় উপস্থিত থাকে। যেমন- লেসিথিন।
(ii) ফসফোইনোসিটাইডঃ যে ফসফোলিপিড গিøসারল, ফ্যাটি এসিড, ফসফোরিক এসিড ও ইনোসিটল দ্বারা গঠিত তাকে ফসফোইনোসিটাইড বলে। ইহা মস্তিষ্কে উপস্থিত থাকে। ইহা সয়াবিনে পাওয়া যায়।
(iii) ফসফোস্ফিঙ্গোসাইডঃ যে ফসফোলিপিড ফ্যাটি এসিড, ফসফোরিক এসিড ও স্ফিঙ্গোসিন দ্বারা গঠিত তাকে ফসফোস্ফিঙ্গোসাইড বলে। ইহা প্রাণীর স্নায়ু কলায় থাকে।
ফসফোলিপিডের কাজ
(i) ফসফোলিপিড কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, টনোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, নিউক্লিয়াস প্রভৃতির ঝিল্লি গঠন করে।
(ii) ইহা কোষের ভেদ্যতা ও পরিবহন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
(iii) কয়েকটি এনজাইমের প্রোসথেটিক গ্রুপ হিসেবে কাজ করে।
(iv) ইহা প্রাণীদেহে রক্ত তঞ্চন বা জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
(v) ইহা কোষের আয়ন হিসেবে কাজ করে। গ্লুকোজ, পানি ও চার্জযুক্ত আয়নের ব্যাপন রোধ করে।
(vi) ইহা জারণের হার বৃদ্ধি করে।
(vii) ইহা অ্যাসিটাইলকোলিন নিউরোট্রান্সমিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(viii) ইহা উদ্ভিদ কোষে জেসমোনিক এসিড উৎপাদনে সাহায্য করে। জেসমোনিক এসিড রোগ প্রতিরোধে অংশ গ্রহণ করে।
(ix) ইহা কোষের অভ্যন্তরীণ স্থিতিবস্থা বজায় রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *