১। দুগ্ধ শিল্পেঃ এই প্রক্রিয়ায় দ্ধু থেকে দই, মাখন, পনির, ছানা, ঘোল প্রভৃতি তৈরী করা হয়। দুধের সাথে Lactobacillus helveticus ও Streptococcus lactis ব্যাকটেরিয়া মিশিয়ে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় ৩৭–৩৮ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় ৩–৫ ঘন্টার মধ্যে দুধ থেকে দই উৎপন্ন করা হয়। দক্ষিণ–পশ্চিম এশিয়ায় কেফির (Kefir), তুরস্কে তারহানা (Tarhara), স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় তিত্তি (Taette) প্রভৃতি তৈরী করা হয়।
২। পাউরুটি শিল্পেঃ পাউরুটি তৈরীর সময় ময়দার সাথে ঈস্ট মেশানো হয়। ময়দায় তাপ দিলে CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। CO2 এর বুদবুদ প্রসারিত হয়ে ফেটে যায় এবং পাউরুটি স্পঞ্জীতে পরিনত হয়। অ্যালকোহল উপজাত পদার্থ হিসেবে উড়ে যায়। ঈস্ট মিশিয়ে তাপ প্রয়োগ করলে প্রথমে হাইড্রোলাইসিস এবং পরে অ্যালকোহলিক ফার্মেন্টেশন ঘটে।
৩। ওষুধ শিল্পেঃ ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস ও অণুজীব থেকে পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন, টেট্রামাইসিন প্রভৃতি অ্যান্টিবায়োটিক উৎপন্ন করা হয়।
৪। অ্যামাইনো এসিডঃ এই প্রক্রিয়ায় ডাই অ্যামাইনো পাইমেলিক এসিড থেকে E. coli ও Enterobacter aerogens ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায় লাইসিন এবং Micrococcus ও Anthrobacter ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায় গ্লুটামিক এসিড তৈরী করা হয়।
৫। এনজাইমঃ Bacillus subtilis, Aspergillus niger, Aspergillus oryzae ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায় অ্যামাইলেজ, প্রোটিয়েজ, সেলুলেজ, পেকটিনেজ প্রভৃতি এনজাইম উৎপন্ন করা হয়।
৬। ল্যাকটিক এসিডঃ এই প্রক্রিয়ায় Lactobacillus, Streptococcus ও Leuconostoc ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায় দুধ, ঘোল, চিটাগুড় এবং অন্যান্য হেক্সোজ সুগার থেকে ল্যাকটিক এসিড উৎপন্ন করা হয়।
৭। বিউটারিক এসিডঃ Clostridium butyricum ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায় এই প্রক্রিয়ায় বিউটারিক এসিড উৎপন্ন করা হয়।
৮। চা ও তামাক শিল্পেঃ ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় চা ও তামাক প্রক্রিয়াজাত করা হয়। Bacillus megatherium ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে চা ও তামাকের বর্ণ ও গন্ধ উন্নত করা হয়। ফার্মেন্টেশনের ফলে চা তাম্র বর্ণ ধারণ করে।
৯। মদ শিল্পেঃ ঈস্ট ব্যবহার করে দেশী মদ তৈরী করা হয়। আঙ্গুরের রস থেকে ওয়াইন, আপেলের রস থেকে সিডার, ধান থেকে স্যাক, সেঞ্চুরী প্ল্যান্ট থেকে মেজক্যাল প্রভৃতি প্রস্তুত করা হয়।
১০। ভিনেগারঃ ঈস্ট–এর সহায়তায় গুড় থেকে অ্যালকোহল তৈরী করা হয়। পরে Acetobacter aceti, Glumonobacter প্রভৃতির সহায়তায় অ্যালকোহল থেকে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড উৎপন্ন করা হয়।
১১। কৃষি উৎপাদনঃ ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় আচার (বাংলাদেশ), ক্যাকাও (আমেরিকা), কফি বিন (ব্রাজিল), কিমচি (জাপান), কিউরড হ্যাম (আমেরিকা), কাতসুবুশি (জাপান) প্রভৃতি তৈরী করা হয়।
১২। চামড়া শিল্পেঃ এ প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে চামড়া থেকে লোম, চর্বি ও অন্যান্য টিস্যু আলাদা করা হয়।
১৩। পাট তন্তু নিষ্কাশনঃ Clostridium butyricum ব্যাকটেরিয়া ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় পাটের তন্তু ও হেম্প পৃথক করে।
১৪। মাংস শিল্পেঃ Penicillium, Aspergillus, Pedicoccus cerevisae প্রভৃতিকে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে মাংসজাত দ্রব্য উৎপন্ন করা হয়। দক্ষিণ আমেরিকায় কিউরড হ্যাম এবং জাপানে কাতসুবুশি তৈরী করা হয়।
১৫। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাঃ এ প্রক্রিয়ায় শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপন্ন করা যায়।
১৬। কোমল পানীয় শিল্পেঃ গাঁজন প্রক্রিয়ায় সাইট্রিক এসিড উৎপন্ন করা হয়। সাইট্রিক এসিড বিভিন্ন প্রকার কোমল পানীয় তৈরীর প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়।
১৭। অ্যালকোহল প্রস্তুতঃ ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় আঙ্গুর, আপেল, তালের রস, খেজুরের রস চিটাগুড় থেকে বিউটানল, অ্যালকোহল, প্রোপানল প্রভৃতি প্রস্তুত করা হয়।
১৮। আয়ুর্বেদিক ওষুধঃ বিভিন্ন ড্রাগের মিশ্রণের সাথে চিটাগুড় মিশানো হয়। মিশ্রণটি পাত্রে রেখে কয়েক দিন মাটির নিচে রাখা হয়। ফলে চিটাগুড় থেকে অ্যালকোহল তৈরী হয়। এতে বিভিন্ন ড্রাগের ওষুধিগুণ শোষিত হয়। এভাবে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরী করা হয়।
১৯। ভিটামিন তৈরীঃ ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় ঈস্টের সাহায্যে ভিটামিন B1, B2 প্রভৃতি তৈরী করা হয়।