১। খাদ্য হিসেবেঃ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাশরুম সুপ্রিয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ইহা টাটকা এবং শুকনো অবস্থায় বাজারে বিক্রি হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিন রয়েছে। মাশরুমের স্যুপ একটি জনপ্রিয় খাবার। বাংলাদেশে ওয়েস্টার মাশরুম Volvariella এবং স্ট্র মাশরুম Pleurotus গণের কয়েকটি প্রজাতি চাষ হচ্ছে। আমেরিকা ও ইউরোপে Agraricus brunnescens (A.bisporus) প্রজাতি ব্যাপক ভাবে চাষ হয়। খাদ্য তালিকায় বহুল ব্যবহৃত Agraricus campestris ও Agraricus bisporus অত্যন্ত উঁচু মানের এবং সুস্বাদু ।
২। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিঃ Agraricus উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ পচিয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
৩। ওষুধ তৈরী ঃ ওষুধ তৈরীতে ছত্রাকের ব্যবহার হলো-
(i) Agraricus-এ শর্করা ও চর্বি কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগী আদর্শ খাবার হিসেবে ব্যবহার হয়।
(ii) ইহা শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করে।
(iii) Agraricus গর্ভবতী মা ও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
(iv) Agraricus-এ লোভাস্টানিন, এন্টাডেনিন ও ইরিটাডেনিন আছে। ইহা শরীরের কোলেস্টেরল কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ ও হৃৎরোগ নিয়ন্ত্রণ করে।
(v) মেজিক মাশরুমে সিলোসিন ও সিলোসাইবিন থাকে। সিলোসিন ও সিলোসাইবিন হলো হ্যালুসিনোজেন-এর মূল উপাদান। হ্যালুসিনোজেন শরীরের বিষন্নতা দূর করে।
(vi) এতে আঁশ বেশি থাকায় ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।
৪। ভিটামিন ঃ টাটকা মাশরুম থেকে থায়ামিন, রিবোফ্লোবিন, ভিটামিন C, D, K ও প্যান্টোথেনিক এসিড পাওয়া যায়।
৫। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাশরুম অত্যন্ত দামী খাবার। ব্যাপকভাবে মাশরুম চাষ ও রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।
৬। বেকারত্ব দূরীকরণ ঃ মাশরুম চাষ করে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাংলাদেশের সাভার ও মানিক গঞ্জে মাশরুম শিল্প গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ৭৮০ মিলিয়ন পাউন্ড মাশরুম চাষ হয়।
৭। দূষণরোধ ঃ পরিবেশ থেকে শিল্পবর্জ্য, তেল এবং পেস্টিসাইড অপসারণে Agaricus ব্যবহার হয়।
৮। দারিদ্রতা বিমোচন ঃ মাশরুম চাষ একটি শ্রমনির্ভর কুটির শিল্প। পরিবারের নারী-পুরুষ একত্রে মাশরুম চাষ করছে। পরিবারের দারিদ্রতা দূর হয়েছে। সাভার এবং মানিকগঞ্জে অনেক মাশরুম শিল্প গড়ে উঠেছে।




