সূর্যের উত্তপ্ত কেন্দ্রে হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে রুপান্তরিত হয়। ৪টি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি হিলিয়াম পরমাণুতে পরিনত হয়। রুপান্তরের সময় যে শক্তি বিকিরিত হয় তাকে ফোটন কণা বলে। ফোটন কণা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ হিসেবে পৃথিবীতে আসে। কসমিক-রে (০.০১-০.১), এক্স-রে (০.১-১০) ও গামা রশ্মির (১০-৩৯০) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অনেক কম এবং ইনফ্রারেড-রে (৭০০-১,০০,০০০) ও রেডিওম্যাগনেটিক রশ্মির (১,০০,০০০-α) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অনেক বেশি।
যে আলো দৃশ্যমান (দেখা যায়) তাকে সাদা আলো বলে। দৃশ্যমান আলোকরশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৩৯০-৭৬০ ন্যানোমিটার। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কেবল মাত্র দৃশ্যমান আলোকরশ্মি ব্যবহার হয়। দৃশ্যমান আলোকরশ্মিতে ৭টি বর্ণের আলো থাকে (বেনিআসহকলা)। এই আলোগুলোকে বর্ণালী বা বর্ণচ্ছটা (light spectrum) বলে। বর্ণালীর তরঙ্গদৈর্ঘ্য হলো বেগুনী ৩৯০-৪৩০ nm, নীল ৪৩০-৪৭০ nm, আসমানী ৪৭০-৫০০ nm, সবুজ ৫০০-৫৬০ nm, হলুদ ৫৬০-৬০০ nm, কমলা ৬০০-৬৫০ nm এবং লাল ৬৫০-৭৬০ nm।
এক অণু CO2 বিজারিত করতে ৮-১০টি ফোটন কণা দরকার হয়। ফোটনের এই সংখ্যাকে কোয়ান্টা বলে। এক অণু গ্লুকোজ তৈরীতে ৫০-৬০টি ফোটন কণা ব্যবহার হয়। বস্তুর উপর পতিত আলোকতরঙ্গের যে পরিমাণ শোষিত হয় তাকে শোষণ বর্ণালী বলে। আপতিত সূর্যালোকের ৮৩% সবুজ পাতা দ্বারা শোষিত হয়, ১২% বায়ুমন্ডলে প্রতিফলিত হয় এবং ৫% ভূগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সবুজ পাতা দ্বারা শোষিত আলোশক্তির মধ্যে ০.৫-৩.৫% ক্লোরোফিল এবং অন্যান্য পিগমেন্ট কর্তৃক শোষিত হয়। সালোকসংশ্লেষণে বেগুনি, নীল, কমলা ও লাল আলো বেশি ব্যবহার হয়। লাল ও নীল আলোতে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি। তবে একক আলো হিসেবে লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণের হার সবচেয়ে বেশি।