উচ্চ ফলনশীল ধান ।। উচ্চ ফলনশীল ধান উদ্ভাবন

১৯৬০ এর দশকে ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (International Rice Research Institute-IRRI) বিজ্ঞানীগণ ইরি ধান উদ্ভাবন করেন। ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান (Peta) এবং তাইওয়ানের ডিজি উজেন (Dee-gee-woo-gen) ধানের মধ্যে সংকরায়ন ঘটিয়ে ইরি ধান উদ্ভাবন করা হয়। ধানের ফলন একর প্রতি ৯০১০০ মণ। ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান (Peta), ভারতের টিকেএম ধান (TKM-6) এবং তাইওয়ানের টাইচু (Tichu-1) ধানের মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে ইরিশাইল ধান উদ্ভাবন করা হয়। ধানের ফলন একর প্রতি ৭০৭৫ মণ। ইরি ধানের ফলন একর প্রতি ৭০৭৫ মণ। উচ্চ ফলনশীল ইরি ধান হলো ইরি২০, ইরি২৮, ইরি২৯ ইত্যাদি।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (Bangladesh Rice Research Institute-BRRI) উচ্চ ফলনশীল বিরি ধান উদ্ভাবন করেছেন। BR-২০ এবং BR এর মধ্যে সংকরায়ন করে উদ্ভাবন করা হয়েছে বিরিশাইল। বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক উদ্ভাবিত চারটি উফশি জাতের ধান হলোচান্দিনা (BR), মালা (BR), শাহী বালাম (BR১৫) এবং শ্রাবনী (BR২৬) আগে বাংলাদেশে চাষকৃত জাতগুলোর ফলন ছিল একরপ্রতি ৩০৩৫ মণ। বর্তমানে চাষকৃত উচ্চ ফলনশীল জাতের ফলন এককপ্রতি ৭০৯০ মণ। BR২৮ এবং BR২৯ আরও উন্নত জাত। গত ৪০ বছরে এশিয়ায় ধানের উৎপাদন কমপক্ষে গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষকের কাছে বোরো মৌসুমে চাষের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ধান হলো ব্রি২৮ এবং ব্রি২৯। বর্তমানে এই জাত দুটির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়েছে এবং সহজেই ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ব্রি২৮ এর বিকল্প হিসেবে চাষ হচ্ছে ব্রি৬৮, ৮১, ৮৬, ৮৮, ৯৬, ১০১, ১০৫ এবং বঙ্গবন্ধু ১০০। ব্রি২৯ এর বিকল্প হিসেবে চাষ হচ্ছে ব্রি৮৯, ৯২, ৯৭, ৯৯, ১০২, বঙ্গবন্ধু ১০০, বিনা২৫ এবং লবণাক্ত এলাকায় বিনা১০।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *