যে সব প্রোটিন যৌগিক প্রোটিন থেকে উৎপন্ন হয় তাদেরকে উৎপাদিত প্রোটিন বলে। এনজাইম, এসিড, ক্ষারক বা তাপের কারণে প্রাকৃতিক প্রোটিন থেকে এ সব প্রোটিন উৎপন্ন হয়। উৎিপাদিত প্রোটিন দুই ধরনের। প্রাথমিক উৎপাদিত প্রোটিন এবং সেকেন্ডারী উৎপাদিত প্রোটিন।
১। প্রাথমিক উৎপাদিত প্রোটিনঃ যে প্রোটিন এসিড বা এনজাইমের প্রভাবে সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক উৎপাদিত প্রোটিন বলে। প্রাথমিক উৎপাদিত প্রোটিনগুলো হলো-
(i) প্রোটিয়ানঃ প্রোটিয়ান পাতলা এসিড, এনজাইম ও পানির বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়। ইহা পানিতে অদ্রবণীয়। এডেস্টিন থেকে এডেস্টান, মায়োসান থেকে মায়োসিন, ফাইব্রিনোজেন থেকে ফাইব্রিন প্রভৃতি সৃষ্টি হয়।
(ii) মেটাপ্রোটিনঃ মেটাপ্রোটিন পানিতে অদ্রবণীয়। তবে লঘু এসিড ও ক্ষারে দ্রবণীয়। যেমন- এসিড মেটাপ্রোটিন, ক্ষারীয় মেটাপ্রোটিন প্রভৃতি।
(iii) তঞ্চিত প্রোটিনঃ প্রোটিনের উপর তাপ বা অ্যালকোহলের প্রভাবে তঞ্চিত প্রোটিন উৎপন্ন হয়। ইহা পানিতে অদ্রবণীয়। যেমন- ডিমের জমাট বাধা সাদা অংশ।
২। সেকেন্ডারী উৎপাদিত প্রোটিনঃ প্রোটিনকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে যে প্রোটিন সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারী উৎপাদিত প্রোটিন বলে। সেকেন্ডারী উৎপাদিত প্রোটিনগুলো হলো-
(i) প্রোটিয়েজঃ পেপসিন ও ট্রিপসিনের ক্রিয়ায় প্রোটিওজ সৃষ্টি হয়। ইহা পানিতে অদ্রবণীয়। তবে তাপে সঞ্চিত হয়। অ্যালবিউলিন থেকে অ্যালবুমোজ এবং গ্লোবিউলিন থেকে গ্লোবিউলোজ উৎপন্ন হয়।
(ii) পেপটোনঃ লঘু এসিড ও এনজাইমের ক্রিয়ায় পেপটোন সৃষ্টি হয়। ইহা পানিতে অদ্রবণীয়। তাপে জমাট বাঁধে না। অ্যামোনিয়াম সালফেট দ্রবণে অধঃক্ষেপ সৃষ্টি করে না।
(iii) পেপটাইডঃ অল্প সংখ্যক অ্যামাইনো এসিড নিয়ে পেপটাইড গঠিত। অ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে ডাইপেপটাইড, ট্রাইপেপটাইড ও পলিপেপটাইড গঠন করে। ইহা পানিতে দ্রবণীয়। যেমন- গ্লাইসিন-অ্যালানিন, লিউসিন-গ্লুটামিক এসিড।
(iv) ইনফ্রাপ্রোটিনঃ ইহা ধাতব প্রোটিন। যেমন- মেটাপ্রোটিন।
(v) কোয়াগুলেটেড প্রোটিনঃ রক্ত জমাট বাঁধলে এই প্রোটিন উৎপন্ন হয়।