উদ্ভিদের পাতা ও কান্ডের বহিরাবরণীকে এপিডার্মিস বলে। মূলের বহিরাবরণীকে এপিবেøমা বলে। মূল ও কান্ডের শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর প্রোটোডার্ম বা ডার্মাটোজেন থেকে ত্বক সৃষ্টি হয়। এপিডার্মিসে কিউটিন ও সুবেরিন জমা হয়ে কিউটিকলের পুরু স্তর গঠন করে। আখ, ধান, বাঁশ, ঘাস, নলখাগড়া প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় সিলিকা কোষ ও কর্ক কোষ থাকে বলে কিনারা ধারাল হয়। বট, অশ^ত্থ, ডুমুর, রাবার প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় লিথোসিস্ট নামক বৃহদাকার কোষ থাকে এবং সিস্টোলিথ নামক ক্যালসিয়াম কার্বোনেট থাকে। সরিষা গোত্রীয় উদ্ভিদের (সরিষা, রাই, মূলা) পাতায় মাইরোসিন কোষ থাকে। ইহা মাইরোসিন এনজাইম নিঃসরণ করে। গম, ভ‚ট্রা, আখ প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় বুলিফর্ম নামক বৃহদাকৃতির কোষ থাকে। বুলিফর্ম পানি সঞ্চয় করে। ফুলের পাপড়ি এবং ফলের ত্বকে অ্যান্থোসায়ানিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে। কোষপ্রাচীরের বাইরে কিউটিন, সুবেরিন, লিগনিন, মোম প্রভৃতির পাতলা প্রলেপ থাকে। মূলের ত্বক থেকে মূলরোম উৎপন্ন হয় বলে মূল ত্বককে পিলিফেরাস স্তর বলা হয়। বট, অশ^ত্থ, রাবার, পাকুড়, করবী ও অর্কিডের ত্বক একাধিক কোষস্তর বিশিষ্ট হয়।
এপিডার্মিস বা ত্বকের কাজ
(i) এপিডার্মিস উদ্ভিদের ভিতরের কোষকে বাইরের আঘাত এবং প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে।
(ii) ত্বক পানি অপচয় বন্ধ করে। ত্বকের কিউটিন, সিলিকা ও মোম প্রস্বেদন হার হ্রাস করে।
(iii) বিষাক্ত গ্রন্থিগুলো প্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
(iv) পাতায় বিদ্যমান পত্ররন্ধ্র গ্যাসীয় পদার্থের বিনিময় ঘটায়।
(v) মূলরোম পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
(vi) ক্লোরোপ্লাস্ট যুক্ত ত্বক খাদ্য তৈরী করে।
(vii) ত্বককোষ বিভাজিত হয়ে ক্ষত নিরাময় করে।
(viii) বুলিফর্ম কোষ পানি সঞ্চয় করে।
(ix) ইহা পানি ও বর্জ্য পদার্থ সঞ্চয় করে।
(x) ত্বকের মোমের আস্তরণ ছত্রাকের আক্রমণ প্রতিহত করে।