কোষের সংজ্ঞা (Cell definition)
ল্যাটিন শব্দ Cellula অর্থ little box বা ক্ষুদ্র কুঠুরী নিয়ে Cell শব্দটি গঠিত। Cell এর অর্থ ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ। জীবদেহের গঠনগত ও কার্যগত একককে কোষ বা Cell বলে।
বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন সময়ে কোষের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
১। Jean Brachet (১৯৬১) এর মতে, কোষ হলো জীবের গঠনগত মৌলিক একক।
২। Lowy এবং Siekevitz (১৯৬১) এর মতে, কোষ হলো জৈবিক কাজের একক যা বৈষম্যভেদ্য পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং স্বপ্রজননক্ষম।
৩। C. P. Hickman (১৯৭০) এর মতে, কোষ হলো জৈবিক গঠন ও কার্যের একক এবং এটিই নুন্যতম জৈবিক একক যা নিজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রজননে সক্ষম।
৪। De Roberties (১৯৭৯) এর মতে, কোষ হলো জীবের মৌলিক গঠনগত এবং কার্যগত একক।
৫। Merriam Webster অভিধান অনুযায়ী, কোষ হলো অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত প্রোটোপ্লাজমের একটি আণুবীক্ষণিক পিন্ড যাতে এক বা একাধিক নিউক্লিয়াস এবং অন্যান্য কোষীয় অঙ্গাণু ও এদের উপাদান থাকে, যা একক ভাবে বা অন্য কোষের সাথে আন্তঃক্রিয়া দ্বারা জীবনের মৌলিক কার্যাবলী সম্পাদন করতে সক্ষম এবং জীবনের স্বাধীন কার্যকরী ক্ষুদ্রতম গাঠনিক একক গঠন করে।
প্রথম কোষের উৎপত্তি (Formation of First cell)
Alixander Operio এবং J. B. S. Harold (১৯২০)-এর মতে, আদিকালে বায়ুমন্ডলের মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), হাইড্রোজেন (H2) এবং পানির (H2O) ঘর্ষণে জৈব অণু বা অ্যামাইনো এসিড তৈরী হয়।
Stanly Miller এবং Harold Urey (১৯৫৩) গবেষণাগারে মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন এবং পানির মিশ্রণে বৈদ্যুতিক প্রবাহ চালিয়ে অ্যামাইনো এসিড তৈরী করেছিলেন।
অনেকের ধারণা, আদি জীবন হলো RNA । RNA থেকে পরে প্রোটিন তৈরী হয়। এই ধারণা RNA-World হাইপোথেসিস নামে পরিচিত।
১। লাইটেনিং এর করণে বায়ুমন্ডলের মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), হাইড্রোজেন (H2) ও পানির (H2O) ঘর্ষণের ফলে অ্যামাইনো এসিড সৃষ্টি হয়েছিল।
২। গভীর সমুদ্রে অ্যামাইনো এসিড থেকে কার্বন যৌগ ও পলিমার সৃষ্টি হয়েছিল।
৩। পরবর্তীতে পলিমারের সাথে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার তৈরী হয়েছিল।
৪। পলিমার হতে RNA সৃষ্টি হয়েছিল।
৫। RNA থেকে প্রোটিন সৃষ্টি হয়েছিল (RNA–World হাইপোথেসিস)
৬। প্রোটিন হতে আদি কোষ সৃষ্টি হয়েছিল।
৭। আদি কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত হয় এবং কোষঝিল্লি দ্বারা আবৃত হয়ে প্রকৃত কোষে পরিনত হয়েছিল
৮। প্রকৃত কোষে ব্যাকটেরিয়াম প্রবেশ করে মাইটোকন্ড্রিয়নে রুপান্তরিত হয় এবং প্রাণী কোষে পরিনত হয়েছিল।
৯। প্রাণী কোষে ফটোসিনথেটিক ব্যাকটেরিয়াম প্রবেশ করে ক্লোরোপ্লাস্টে রুপান্তরিত হয় এবং উদ্ভিদ কোষে পরিনত হয়েছিল।
আদি উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে আদি কোষ। আদি কোষের DNA নিউক্লিয়াসে পরিনত হয় এবং প্রকৃত কোষ সৃষ্টি করে। প্রকৃত কোষে বায়বীয় ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে মাইটোকন্ড্রিয়নে পরিনত হয় এবং প্রাণী কোষ গঠন করে। প্রাণী কোষে ফটোসিনথেটিক ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে ক্লোরোপ্লাস্টে পরিনত হয় এবং উদ্ভিদ কোষ গঠন করে। নিউক্লিয়াস যুক্ত কোষে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে টিকে থাকার প্রক্রিয়াকে এন্ডাসিমবায়োসিস বলে।
Thanks
Fine