কোষ আবিষ্কার
১৬৬৫ সালে ব্রিটিশ প্রকৌশলী রবার্ট হুক নিজের তৈরী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ছিপির একটি পাতলা স্লাইড পর্যবেক্ষণ করে মৌচাকের মতো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কুঠুরী বা প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন Cell। তাঁর পর্যবেক্ষণকৃত সকল তথ্য Microgaphia নামক গ্রন্থে প্রকাশ করেন। ১৬৭৪ সালে ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম প্রোটোজোয়া, ব্যাকটেরিয়া, লোহিত রক্তকণিকা, শুক্রাণু প্রভৃতি পর্যবেক্ষণ করেন। কোষ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন- গ্রু (১৬৮২), উলফ (১৭৫৯), দ্য মিরবেল (১৮০২), ওকেন (১৮০৫), ল্যামার্ক (১৮০৯) এবং ড্রট্রোচেট (১৮২৪)।
১৭৮১ সালে ফেলিস ফন্টানা কোষের ভিতর নিউক্লিয়াসের অস্তিক্ত অনুমান করেন। ১৮৩৩ সালে রবার্ট ব্রাউন সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। ১৮৩৫ সালে ফরাসি কোষবিদ ফেলিক্স ডুজারডিন কোষের জেলির ন্যায় থকথকে পদার্থকে সারকোড নামে অভিহিত করেন। ১৮৪০ সালে পার্কিনজি জেলির ন্যায় তরল সারকোডকে প্রোটোপ্লাজম নামে অভিহিত করেন। বিজ্ঞানীদের ধারণা ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে কোষের আবির্ভাব হয়েছে।
কোষের বৈশিষ্ট্য (Characters of Cell)
১। কোষ হলো জীবদেহের গাঠনিক ও কার্যিক একক।
২। ইহা জীবনের মৌলিক একক।
৩। ইহা অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
৪। পূর্বতন কোষ থেকে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়।
৫। ইহা সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
৬। ইহা দেহের স্থিতাবস্থা বা homeostatic অবস্থা বজায় রাখে।
৭। কোষ জীবনের জন্য সকল উপাদান ধারণ করে।
৮। এর অভিযোজন ক্ষমতা আছে।
৯। এর ভিতরে প্রয়োজনীয় পদার্থ চলাচল করতে পারে।
১০। ইহা যেকোন উদ্দীপনায় সাড়া দিতে পারে।
১১। কোষের নিজস্ব শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা আছে। উৎপাদিত শক্তি ATP হিসেবে সঞ্চিত থাকে।
১২। কোষে নাইট্রোজেন ক্ষারযুক্ত পলিমার উপাদান থাকে যা রেপলিকেশন ঘটায় ।
১৩। এরা স্বপ্রজননক্ষম।
১৪। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কোষে নিজস্ব বংশগতিয় তথ্য থাকে।
১৫। ইহা দেহের বিপাক ঘটায়।
১৬। নির্দিষ্ট সময় পর কোষের মৃত্যু ঘটে।
One thought on “কোষ আবিষ্কার- কোষের বৈশিষ্ট্য”