পাকস্থলীর মিউকোসা স্তরের যেসব কোষ থেকে পরিপাককারী রস নিঃসৃত হয় তাকে গ্যস্ট্রিক গ্রন্থি বলে। গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি তিন প্রকার। ফান্ডিক গ্রন্থি, কার্ডিয়াক গ্রন্থি এবং পাইলোরিক গ্রন্থি। প্রতিবার খাদ্য গ্রহণের সময় পাকস্থলী হতে ৫০০-১০০০ মিলি গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো হলো-
(i) পেপটিক বা চীফ কোষঃ পেপটিক বা চীফ কোষ হতে পেপসিনোজেন, রেনিন, জিলেটিনেজ, লাইপেজ প্রভৃতি নিঃসৃত হয়।
(ii) প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষঃ প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষ ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টর ও HCl নিঃসৃত করে।
(iii) মিউকাস গ্রন্থিঃ মিউকাস গ্রন্থি হতে মিউসিন নিঃসৃত হয়।
(iv) জি-কোষ বা গ্যাস্ট্রিন কোষঃ জি-কোষ গ্যাস্ট্রিন রস নিঃসরণ করে।
(v) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিঃ গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি হতে গ্যাস্ট্রিন রস নিঃসৃত হয়।
(vi) আরজেন্টাফিন কোষঃ ইহা হরমোন ক্ষরণ এবং ভিটামিন B12 শোষণ করে। ইহা সেরোটোনিন নিঃসৃত করে।
(vii) মিউকাস কোষ বা গবলেট কোষঃ ইহা মিউকাস ক্ষরণ করে।
গ্যাস্ট্রিক রস (Gastric juice)
পাকস্থলীর জি-কোষ, পেপটিক কোষ, গবলেট কোষ, প্যারাইটাল কোষ, মিউকাস কোষ প্রভৃতি হতে যে রস নিঃসৃত হয় তাকে গ্যাস্ট্রিক রস বলে। গ্যাস্ট্রিক রসে ভিটামিন-ই১২ এর অভাব হলে পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া রোগ বলে।
গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসরণের তিনটি পর্যায়
১। সেফালিক পর্যায়ঃ খাদ্য বস্তু পাকস্থলীতে প্রবেশের পুর্বে এ পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে ২০ ভাগ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।
২। গ্যাস্ট্রিক পর্যায়ঃ পাকস্থলীতে খাবার অবস্থন করার সময় হলো গ্যাস্ট্রিক পর্যায়। এ পর্যায়ে পরিপাকের জন্য ৭০ ভাগ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।
৩। আন্ত্রিক পর্যায়ঃ খাবার পাকস্থলী হতে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করলে আন্ত্রিক পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।
গ্যাস্ট্রিক রসের উপাদান
(i) পানিঃ গ্যাস্ট্রিক রসে ৯৯.৪৫% পানি থাকে।
(ii) জৈব উপাদানঃ গ্যাস্ট্রিক রসে পেপসিন, রেনিন, লাইপেজ, মিউসিন, ইনট্রিন্সিক ফ্যাক্টর প্রভৃতি থাকে।
(iii) অজৈব উপাদানঃ গ্যাস্ট্রিক রসে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাসিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ফসফেট, ম্যাগনেসিয়াম ফসফেট প্রভৃতি থাকে।