একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে জিনগত জীববৈচিত্র্য বা জেনেটিক ডাইভারসিটি বলে। একে অন্তঃপ্রজাতিক (intraspesific) বৈচিত্র্যও বলা হয়। এসব প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে অন্তঃজনন (inbreeding) ঘটে। যে প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্য বেশি তার অভিযোজন ক্ষমতাও বেশি। জিন রোগের প্রতি সংবেদনশীল হলে তা বংশ পরস্পরায় সঞ্চারিত হয়। মানুষ একই প্রজাতির (Homo sapien) হওয়া সত্তে¡ও জিনগত কারণে আকার, আকৃতি, গায়ের রং, চুলের বর্ণ প্রভৃতিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। প্রজাতিতে জিনের অ্যালিল ভিন্নতার কারণে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। মিউটেশনের কারণে জিনের নতুন অ্যালিল সৃষ্টি হতে পারে।
জিনগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব (Importance of genetics diversity)
(i) কোনো প্রজাতিতে অধিক পরিমান জিনগত বৈচিত্র্য থাকলে অধিক প্রকরণ সৃষ্টি হয়। ফলে জীবে পরিবর্তনশীল পরিবেশে টিকে থাকতে সহায়তা করে।
(ii) জিনগত বৈচিত্র্য জীবদেহে নানা ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্য আনয়ন করে। তাই প্রকৃতিতে টিকে থাকা এবং অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
(iii) জিনগত বৈচিত্র্য বংশগতিয় অনাকাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের পুনঃআবির্ভাব হ্রাস করে।
(iv) কম জিনগত বৈচিত্র্য বিশিষ্ট জীব সর্বদা হুমকিতে থাকে।
(v) জিনগত বৈচিত্র্য পরজীবী, বালাই ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
(vi) জিনগত বৈচিত্র্য প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করে। কারণ এতে বেঁেচ থাকার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।