১। ভ্রুণের পরিস্ফুটনঃ নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট বিভাজিত হয়ে আদিভ্রুণ (Pro-embryo) গঠন করে। আদিভ্রুণ বিভাজিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ ভ্রুণে পরিনত হয়। আদিভ্রুণ বিভাজিত হয়ে বীজপত্র, ভ্রুণকান্ড এবং ভ্রুণমূল সৃষ্টির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ভ্রুণ গঠন করে।
২। সস্যের উৎপত্তিঃ জীবজগতের খাদ্যের প্রধান উৎস হলো সস্য। শুক্রাণু সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে এন্ডোস্পার্ম বা সস্য উৎপন্ন করে।
৩। বীজ সৃষ্টিঃ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট সৃষ্টি হওয়ার পর ডিম্বক বীজে পরিনত হয়।
৪। ফল সৃষ্টিঃ নিষেকের পর ফুলের গর্ভাশয় ধীরে ধীরে ফলে এবং গর্ভাশয়ের ত্বক ফলত্বকে পরিনত হয়।
৫। বংশ রক্ষাঃ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের পর ফুলের ডিম্বকটি বীজে পরিনত হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদ বীজ দ্বারা বংশ বৃদ্ধি করে।
৬। নতুন প্রজাতি সৃষ্টিঃ দুইটি ভিন্ন কোষ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। এতে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়।
৭। জীববৈচিত্র্য সৃষ্টিঃ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট থেকে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হয়। নতুন প্রজাতির মাধ্যমে জীববৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয়।
৮। খাদ্য চাহিদা পুরণঃ নিষেকের মাধ্যমে বীজ ও ফল সৃষ্টি হয়। বীজ ও ফল জীবজগতের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, বেল, তাল, ধান, গম, ভূট্রা, যব, কাউন প্রভৃতি খাদ্য চাহিদা পূরণ করে।
৯। রোগ প্রতিরোধী জাত সৃষ্টিঃ নিষেকের মাধ্যমে উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধী জাত সৃষ্টি করা যায়।
১০। কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের উন্নয়নঃ নিষেক ক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়।
১১। বিবর্তনঃ বিবর্তনের ধারা বর্ণনার জন্য নিষেক গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে।
১২। ক্রোমোজোমের ভারসাম্য রক্ষাঃ নিষেক প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি হয়। এতে জীবের ক্রোমোজোমের সংখ্যা স্থির থাকে।

