পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার কৌশল ।। স্টার্চ-গ্লুকোজ রুপান্তর মতবাদ

১৯৬৪ সালে বিজ্ঞানী স্টিওয়ার্ড (Steward) স্টার্চ-গ্লুকোজ রুপান্তর মতবাদটি প্রবর্তন করেন।

(i) পত্ররন্ধ্র খোলার কৌশলঃ দিনের বেলা রক্ষীকোষে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO2 ব্যবহার হয়। এতে রক্ষীকোষে CO2 এর পরিমাণ কমে যায় এবং pH বেড়ে যায়। এ কারণে ফসফোগ্লুকোমিউটেজ এনজাইমের প্রভাবে শ্বেতসার বা স্টার্চ গ্লুকোজ ৬-ফসফেটে পরিনত হয়। পরবর্তীতে ফসফাটেজ এনজাইমের সাহায্যে গ্লুকোজ ৬-ফসফেট, গ্লুকোজ ১-ফসফেটে পরিনত হয়। এতে রক্ষীকোষের ঘনত্ব বেড়ে যায়। অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় রক্ষীকোষে পানি প্রবেশ করে। রক্ষীকোষ স্ফীত হয়ে ধনুকের মতো বেঁকে যায় এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।

শ্বেতসার/স্টার্চ→গ্লুকোজ ৬-ফসফেট→গ্লুকোজ ১-ফসফেট

(ii) পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়ার কৌশলঃ রাতের বেলা রক্ষীকোষে শ্বসন প্রক্রিয়ায় CO2 উৎপন্ন হয়। CO2 পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড উৎপন্ন করে। ফলে রক্ষীকোষের pH কমে যায়। এ কারণে ফসফাটেজ এনজাইমের প্রভাবে গ্লুকোজ ১-ফসফেট, গ্লুকোজ ৬-ফসফেটে পরিনত হয়। পরবর্তীতে ফসফোগ্লুকোমিউটেজ এনজাইমের প্রভাবে গ্লুকোজ ৬-ফসফেট শ্বেতসার/স্টার্চে রুপান্তরিত হয়। এতে রক্ষীকোষের ঘনত্ব কমে যায়। বহিঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় রক্ষীকোষ থেকে পানি বেরিয়ে যায়। রক্ষীকোষ পানি হারিয়ে শিথিল হয়ে যায় এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।

গ্লুকোজ ১-ফসফেট →গ্লুকোজ ৬-ফসফেট →শ্বেতসার/স্টার্চ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *