মূল ।। দ্বিবীজপত্রী মূল ।। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের অন্তর্গঠন ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের পাতলা প্রস্থচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করলে দুইটি অঞ্চল দেখা যায়। বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল এবং অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল।

১। বহিঃস্টিলীয় অঞ্চলঃ স্টিলীর বাইরের অঞ্চলকে বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল বলে। এর বিভিন্ন অংশ হলো

(i) এপিবেøমা বা মূলত্বকঃ মূলের সবচেয়ে বাইরের স্তরটির নাম হলো এপিবেøমা বা মূলত্বক। মূলত্বক একস্তরবিশিষ্ট। এর প্রাচীর পাতলা। এতে এককোষী মূলরোম আছে। ইহা পানি খনিজ লবণ পরিশোষণ করে।

(ii) কর্টেক্সঃ কর্টেক্স বহুস্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো গোলাকার বা ডিম্বাকার হওয়ায় আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে। ইহা প্যারেনকাইমা জাতীয় কোষ এবং প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা।

(iii) এন্ডোডার্মিস বা অন্তঃত্বকঃ ইহা একস্তরবিশিষ্ট এবং পিপাকৃতির কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং ফাঁকবিহীন। কোষগুলোর প্রস্থপ্রাচীরে ক্যাসপেরিয়ান ফিতা বিদ্যমান। এতে কয়েকটি প্যাসেজ কোষ আছে। এই স্তর খাদ্য সঞ্চয় করে, স্টিলী অঞ্চলকে রক্ষা করে এবং প্যাসেজ কোষের মাধ্যমে পানি দ্রবীভ পদার্থ প্রবেশ করে।

২। অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চলঃ পেরিসাইকল থেকে মজ্জা পর্যন্ত অঞ্চলকে স্টিলী বা অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল বলে। এর বিভিন্ন অংশ হলো

(i) পেরিসাইকল বা পরিচক্রঃ অন্তঃত্বকের নিচে একস্তর পেরিসাইকল থাকে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত এবং কোষপ্রাচীর অত্যন্ত পাতলা।

(ii) ভাস্কুলার বান্ডলঃ জাইলেম বা ফ্লোয়েম গুচ্ছের সংখ্যা চারটি। এরা অরীয় ভাবে এবং চক্রাকারে সাজানো। প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এক্সার্ক। ইহা পানি খাদ্য পরিবহন করে। 

(iii) মজ্জাঃ মূলের কেন্দ্রে অবস্থিত ভাস্কুলার বান্ডল দ্বারা পরিবেষ্টিত অংশকে মজ্জা বলে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো গোলাকার, পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট এবং কোষাবকাশযুক্ত।

(iv) মজ্জারশ্মিঃ ভাস্কুলার বান্ডলের মধ্য দিয়ে মজ্জা থেকে পেরিসাইকল পর্যন্ত অংশকে মজ্জারশ্মি বলে। ইহা সরু লম্বা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। ইহা খাদ্য সঞ্চয় করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *