রুই হলো মিঠা পানির কার্প জাতীয় মাছ। এর জীবনচক্র কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এর ধাপ গুলো নিম্নরুপ।
১। যৌন পরিপক্কতাঃ দুই বছর বয়সের রুই মাছ প্রজননক্ষম হয়। স্ত্রীমাছ ৫১-৭০ সেমি এবং পুরুষ মাছ ৬০-৬৫ সেমি লম্বা হলে যৌন পরিপক্কতা লাভ করে।
২। প্রজনন ঋতুঃ প্রকৃতিতে রুই মাছ বছরে একবার প্রজনন করে। বর্ষাকাল বা জুন-জুলাই মাস এদের প্রজননের উপযুক্ত সময়। এসময় পানি স্রোতময় ও ঘোলা হয়। ঘোলা পানি পোনা মাছের বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত।
৩। ডিম পাড়াঃ মাছের ডিম উৎপাদন ক্ষমতাকে ফিকান্ডিটি বলে। মাছের ডিম পাড়ার প্রক্রিয়াকে স্পনিং বলে। রুই মাছ বদ্ধ পানিতে বাস করলেও ডিম পাড়ে স্রোতযুক্ত পানিতে। একে প্রোটামোড্রোমাস বলে। ডিম পাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ হলো পানির তাপমাত্রা ২৪-২৮০ সে. এবং পানিতে প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন থাকে। অমাবস্যা বা পুর্ণিমায় রুই মাছ ডিম পাড়ে। এ সময় পুরুষ মাছ পানিতে স্টেরয়েড হরমোন নিঃসৃত করে স্ত্রী মাছকে প্রজননে আকৃষ্ট করে। রিট্যাক্সিসের আবেশীয় প্রভাবে স্ত্রী মাছ ঘোলা পানিতে প্রায় ১৯,০০,০০০ টি ডিম পাড়ে। যে সব ডিম পানিতে ভাসে তাকে পেলাজিক ডিম এবং যে সব ডিম পানিতে ডুবে যায় তাকে ডিমারসাল বলে।
৪। নিষেকঃ পুরুষ মাছ ডিম্বাণুর উপর শুক্ররস ছেড়ে দেয়। নদীর পানি ওলট-পালট হয়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিশে যায়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে নিষেক ঘটে। নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
৫। পরিস্ফুটনঃ যে প্রক্রিয়ায় জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে পুর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিনত হয় তাকে পরিস্ফুটন বলে। ইহা তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
(i) ভ্রুণীয় পরিস্ফুটনঃ জাইগোট সৃষ্টির ৩০-৪৫ মিনিট পর ক্লিভেজ শুরু হয়। জাইগোট ক্লিভেজ প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে মাইক্রোমিয়ার ও ম্যাক্রোমিয়ার কোষ সৃষ্টি করে। ব্লাস্টুলেশন প্রক্রিয়ায় এই কোষ গুলো ব্লাস্টোমিয়ারে পরিনত হয়। ব্লাস্টোমিয়ার কোষ একটি নির্দিষ্ট স্তরে সজ্জিত থাকে। গ্যাস্ট্রুলেশন প্রক্রিয়ায় ব্লাস্টোমিয়ার কোষ গুলো তিনটি স্তরে সজ্জিত হয়। যথা- এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম।
(ii) লার্ভা দশার পরিস্ফুটনঃ ১৫-১৮ ঘন্টার মধ্যে ডিম থেকে লার্ভা বেরিয়ে আসে। লার্ভাকে ডিমপোনা বলা হয়। ডিমপোনার বয়স ৭২ ঘন্টা হলে তাকে রেণুপোনা বলে। এ দশায় ভ্রিুণ হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। নটোকর্ড ও স্নায়ু রজ্জু গঠিত হয়। চোখ, শ্রবণ যন্ত্র ও ক্রোম্যাটাফোর সৃষ্টি হয়। বায়ুথলী ও অংকীয় পাখনা থাকে।
(iii) লার্ভা পরবর্তী পরিস্ফুটনঃ এ দশায় কুসুম থলী ধ্বংস হয়ে যায়। অপারকুলাম, পৃষ্ঠ পাখনা, পুচ্ছ পাখনা প্রভৃতির উদ্ভব ঘটে। বায়ুথলী দুই ভাগে বিভক্ত হয়। লেজ হোমোসার্কাল হয়। নাসারন্ধ্র সম্পুর্ণ বিভাজিত হয়, চোখ সমান হয় এবং মাংসাল মুখ গঠিত হয়।
৬। আঙ্গুলি পোনাঃ পোনার দৈর্ঘ্য ৭-১২ মিমি হলে তাকে ধানীপোনা বলে। পোনার বয়স ৯-৩০ দিন হলেতাকে আঙ্গুলি পোনা বলে। আঙ্গুলি পোনায় আঁইশ, পাখনা, বার্বেল প্রভৃতি গঠিত হয়।
৭। ব্রæড মাছঃ আঙ্গুলির আঙ্গিক ও গাঠনিক পরিবর্তন ঘটে। পূর্ণাঙ্গ মাছে পরিনত হয়। যৌন পরিপক্কতা লাভ করে। যৌন পরিপক্কতা লাভ করলে তাকে ব্রæড মাছ বলে।