রুই মাছের বাহ্যিক গঠন । Labeo Ruhita External structure । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই মাছ দেখতে লম্বা, চাপা ও মাকু আকৃতির। এরুপ গঠনকে স্ট্রিমলাইনড্ বলে। ইহা রুপালী সাদা বর্ণের। এরা লম্বায় তিন ফুটের বেশি এবং ওজনে ২০-২৫ কেজি হতে পারে। রুই মাছের দেহ তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। মস্তক, দেহকান্ড  ও  লেজ

১। মস্তকঃ দেহের অগ্রপ্রান্ত হতে কানকো পর্যন্ত অংশকে মস্তক বলে। মস্তকের পৃষ্ঠদেশ উত্তল, মসৃণ ও আঁইশবিহীন। মস্তকের সামান্য নিচে অর্ধ গোলাকার মুখ ছিদ্র থাকে। মুখছিদ্র মাংসাল ঠোট দ্বারা পরিবেষ্টিত। মুখছিদ্রের দুপাশে সুতার মতো সংবেদী ম্যাক্সিলারী বার্বেল থাকে। মাথার দুপাশে দুটি চোখ থাকে। চোখে পল্লব থাকে না। চোখের সামনে একটি করে নাসাছিদ্র থাকে। প্রতি পাশে একটি করে নড়নক্ষম বৃহৎ কানকো থাকে। কানকোর নিচে চারটি করে চিরুনির মতো ফুলকা থাকে। কানকোর মুক্ত প্রান্তে পাতলা ব্রাংকিওস্টিগাল পর্দা থাকে।

২। দেহকান্ডঃ মাছের কানকোর পিছন থেকে পায়ু পর্যন্ত অংশকে দেহকান্ড বলে। ইহা দেহের সবচেয়ে বড় অংশ। দেহকান্ডের দুপাশে অগ্রভাগ হতে লেজ পর্যন্ত দু’টি পার্শ্বরেখা থাকে। এতে সংবেদী কোষ থাকে বলে একে সংবেদী পার্শ্বরেখা বলে। এতে অসংখ্য পার্শ্বরেখা অঙ্গ বা নিউরোমাস্ট থাকে। রুই মাছের দেহে জোড় ও বিজোড় পাখনা থাকে। এগুলো হলো- একজোড়া বক্ষ পাখনা, একজোড়া শ্রোণী পাখনা, একটি বৃহৎ পৃষ্ঠ পাখনা এবং একটি পায়ু পাখনা। কান্ড পাতলা সাইক্লয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে। দেহের অংকীয় তলে তিনটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। পায়ুছিদ্র, জননছিদ্র ও রেচনছিদ্র।

৩। লেজঃ পায়ু হতে দেহের শেষ প্রান্তকে লেজ বলে। লেজের শেষ প্রান্তে হোমোসার্কাল পুচ্ছ পাখনা থাকে। ইহা দুটি অংশে বিভক্ত। উর্ধ্ব-প্রতিসম এবং অধ-প্রতিসম। লেজে ৬টি পাখনারশ্মি থাকে। পুচ্ছ পাখনাই মাছের একমাত্র চলন অঙ্গ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *