রুই মাছের হৃৎপিন্ডের গঠন । Labeo rohita heart । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই মাছের হৃৎপিন্ড পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরে  অবস্থান করে।  ইহা পেরিকার্ডিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। হৃৎপিন্ডের প্রাচীরের হৃৎপেশি হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে বলে একে মায়োজেনিক হার্ট বলা হয়। হৃৎপিন্ডের অংশগুলো হলো-

১। উপপ্রকোষ্ঠ বা সাইনাস ভেনোসাসঃ সাইনাস ভেনোসাস হলো ত্রিকোনাকৃতির এবং স্থিতিস্থাপক উপপ্রকোষ্ঠ। ইহা পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট। শিরা, ডাক্টাস ক্যুভিয়ে এবং হেপাটিক সাইনাস হতে রক্ত সাইনাস ভেনোসাসে আসে। সাইনাস ভেনোসাস হতে রক্ত অলিন্দে প্রবেশ করে।

২। অলিন্দঃ অলিন্দ হলো হৃৎপিন্ডের সবচেয়ে বড় প্রকোষ্ঠ। ইহা ত্রিকোনাকার, পেশিময় এবং পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট। এর এক প্রান্ত নিলয়ের সাথে এবং অপর প্রান্ত সাইনাস ভেনোসাসের সাথে যুক্ত থাকে। ইহা সাইনাস ভেনোসাস হতে ঈঙ২ যুক্ত রক্ত সংগ্রহ করে নিলয়ে পৌছে দেয়।

৩। নিলয়ঃ নিলয় হলো পেশিময়, মাংসাল এবং পুরু প্রাচীর বিশিষ্ট গহŸর। নিলয়ের এক প্রান্ত অলিন্দের সাথে এবং অপর প্রান্ত বাল্বাস আর্টারিওসাসের সাথে যুক্ত থাকে। ইহা CO2 যুক্ত রক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে।

৪। বাল্বাস আর্টারিওসাসঃ রুই মাছের হৃৎপিন্ডে কোনাস আর্টারিওসাস থাকে না। ধমনীর গোড়া স্ফীত হয়ে বাল্বাস আর্টারিওসাস গঠন করে। হৃৎপেশি বা পেরিকার্ডিয়াম আবরণী থাকে না বলে বাল্বাস আর্টারিওসাস হৃৎপিন্ডের অংশ নয়। ইহা হৃৎপিন্ড হতে রক্ত ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টায় পৌছে দেয়।

৫। হৃৎপিন্ডের কপাটিকাঃ রুই মাছের হৃৎপিন্ডে তিন ধরনের কপাটিকা থাকে।

(i) সাইনো-অ্যাট্রিয়াল কপাটিকাঃ ইহা সাইনাস ভেনোসাস ও অলিন্দের মাঝখানে থাকে।

(ii) অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকাঃ ইহা অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝখানে থাকে।

(iii) ভেন্ট্রিকুলো-বাল্বাস কপাটিকাঃ ইহা নিলয় ও বাল্বাস অ্যাওর্টার মাঝখানে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *