গ্রিক Symbioum শব্দ অর্থ live together বা একত্রে বাস করা। ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত দু’টি জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থানের ফলে পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হওয়াকে মিথোজীবীতা বলে। Zoochlorella নামক শৈবাল এবং Chlorohydra viridissima নামক সবুজ হাইড্রা মিথোজীবীতা গঠন করে। আবার, সাগর কুসুম ও ক্লাউন ফিস মিলে মিথোজীবিতা গঠন করে। হাইড্রার ডিম্বাণুর সাথে শৈবালের অংশ পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। তাই শৈবালকে lifelong paying guest বলে। হাইড্রা ও শৈবাল কিভাবে উপকৃত তা নিচে আলোচনা করা হলো।
শৈবাল কিভাবে উপকৃত হয়
১। আশ্রয় লাভঃ শৈবাল হাইড্রার অন্তঃত্বকের পেশী আবরণী কোষে আশ্রয় গ্রহণ করে।
২। CO2 প্রাপ্তিঃ হাইড্রার শ্বসনে সৃষ্ট CO2-কে শৈবাল সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার করে।
৩। নাইট্রোজেনজাত পদার্থ প্রাপ্তিঃ হাইড্রার বিপাকীয় নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থকে শৈবাল ব্যবহার করে আমিষ জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।
৪। পরিবেশীয় পীড়ন থেকে রক্ষাঃ শৈবাল হাইড্রার দেহে আশ্রয় লাভ করে। তাই তাপ, চাপ, শুষ্কাতা প্রভৃতি থেকে রক্ষা পায়।
হাইড্রা কিভাবে উপকৃত হয়
১। খাদ্যঃ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শৈবাল যে খাদ্য উৎপন্ন করে তার অতিরিক্ত অংশ হাইড্রা গ্রহণ করে। শৈবাল মারা গেলে মৃতদেহকে হাইড্রা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে।
২। O2 প্রাপ্তিঃ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শৈবাল যে O2 উৎপন্ন করে হাইড্রা তা শ্বসন কাজে ব্যয় করে।
৩। বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনঃ হাইড্রা শ্বসন প্রক্রিয়ায় নাইট্রোজেন জাতীয় বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন করে। শৈবাল এসব বর্জ্য পদার্থ গ্রহণ করে হাইড্রাকে বর্জ্য মুক্ত করে।