অগ্ন্যাশয় গ্রন্থির গঠন ও কাজ । Pancreas gland । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অগ্ন্যাশয় হলো একটি মিশ্র গ্রন্থি। ইহা দেখতে পাতা বা নলাকার বা বকযন্ত্র বা মরিচের মতো। এ গ্রন্থি তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। মাথা, দেহ ও লেজ। কোষীয় বিন্যাসে ইহা দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। সনালী অংশ বা এসাইনাস ও অনালী অংশ বা আইলেট্স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স। এর দৈর্ঘ্য ২০ সেমি এবং প্রস্থ ৫ সেমি। অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থি থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নালিকা নির্গত হয়। এই নালিকা গুলো মিলিত হয়ে উইর্সাং নালিকা গঠন করে। উইর্সাং নালি পরে ভ্যাটারের অ্যাম্পুলার মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। অগ্ন্যাশয় লোবিওল নামক কতক গুলো খন্ডে বিভক্ত। লোবিওলের ফাঁকে ফাঁকে আইলেট্স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক কোষ পুঞ্জ থাকে। আইলেট্স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স প্রায় ১০ লক্ষ কোষ দ্বারা গঠিত। এতে চার ধরনের কোষ থাকে। আলফা, বিটা, গামা ও ডেল্টা। অগ্ন্যাশয় হতে প্রতি ২৪ ঘন্টায় ৫০০-১২০০ মিলি রস নিঃসৃত হয়। ইহা বর্ণহীন, ক্ষারধর্মী ও তরল। এর pH ৭.৫-৮.৫।

অগ্ন্যাশয় রসের রাসায়নিক উপাদান

(i) পানিঃ অগ্ন্যাশয় রসে ৯৮% পানি থাকে।

(ii) জৈব উপাদানঃ অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিওলাইটিক, অ্যামাইলোলাইটিক, লিপোলাইটিক, মিউসিন, লাইপেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ, ল্যাক্টেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, ট্রিপসিন-ইনহিবিটর, নিউক্লিয়েজ প্রভৃতি থাকে।

(iii) অজৈব উপাদানঃ অগ্ন্যাশয় রসে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সালফেট, ফসফেট প্রভৃতি থাকে।

অগ্ন্যাশয় রসের কাজ বা গুরুত্ব

১। হরমোন নিঃসরণঃ অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স ১০ লক্ষ কোষের একটি গুচ্ছ নিয়ে গঠিত।

(i) আলফা কোষঃ মানব আইলেটসের ২০% কোষ হলো আলফা কোষ। ইহা গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরণ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

(ii) বিটা কোষঃ  মানব আইলেটসের ৫০-৭০% কোষ হলো বিটা কোষ। ইহা ইনসুলিন হরমোন ক্ষরণ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়। এই হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।

(iii) ডেল্টা কোষঃ মানব আইলেটসের ১০% কোষ হলো ডেল্টা কোষ। ইহা সোমাটোস্ট্যাটিন হরমোন ক্ষরণ করে যা আলফা ও বিটা কোষের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

(iv) গামা কোষঃ ইহা প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে।

২। এনজাইম নিঃসরণঃ এ গ্রন্থি হতে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন ও লাইপেজ নিঃসৃত হয়। এছাড়া এই গ্রন্থি থেকে কাইমোট্রিপসিন, কোলাজিনেজ, ইরেপসিন, ইলাস্টেজ, ফসফোলাইপেজ, এস্টারেজ, কার্বক্সিপেপটাইডেজ, অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ডাইপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ প্রভৃতি নিঃসৃত হয়।

৩। লবণ নিঃসরণঃ এ গ্রন্থি থেকে বাইকার্বনেট লবণ নিঃসৃত হয়। ইহা পাকস্থলীর অম্লতা দূর করে।

৪। পানি সমতাঃ ইহা দেহে পানি সমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। অম্ল-ক্ষার সমতাঃ ইহা দেহে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *