Agaricus-এর দেহ দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। মাইসেলিয়াম এবং ফ্রুটবডি বা স্পোরোফোর।
১। মাইসেলিয়াম (Mycelium)ঃ Agaricus-এর দেহ সরু, সূত্রাকার, শাখান্বিত ও বহুকোষী বর্ণহীন হাইফি দ্বারা গঠিত। হাইফি গুলো পরস্পর মিলিত হয়ে মাইসেলিয়াম গঠন করে। ইহা বহুবর্ষজীবী ছত্রাক। Agaricus-এর মাইসেলিয়াম অ্যাসিনোসাইটিক। অর্থাৎ ইহা প্রস্থ প্রাচীর দ্বারা বহু কোষে বিভক্ত। প্রতিটি কোষে দানাদার সাইটোপ্লাজম, একাধিক নিউক্লিয়াস, লাইসোসোম, রাইবোসোম, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, ছোট ছোট কোষ গহŸর ও সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে তেল বিন্দু থাকে। কোষ প্রাচীর কাইটিন নির্মিত। এতে সালোকসংশ্লেষণকারী বর্ণকণিকা থাকে না। মাইসেলিয়াম গুলো পরস্পর জড়াজড়ি করে দড়ির মতো গঠন সৃষ্টি করে। একে রাইজোমরফ্ বলে। একটি মাশরুম একদিনে এক কিলোমিটার লম্বা হাইফি তৈরী করতে পারে। মাইসেলিয়াম থেকে উৎপন্ন ব্যাসিডিওকার্প মাটির উপরে বলয়াকারে অবস্থান করে। এ ধরনের বলয়কে পরী বলয় বা ফেয়ারি রিং (Fairy ring) বলে।
২। ফ্রুটবডি (Footbody)ঃ মাইসেলিয়াম হতে ছাতার ন্যায় যে বায়বীয় হাইফি সৃষ্টি হয় তাকে ফ্রটবডি বলে। ফ্রুটবডি সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ফ্রুকটিফিকেশন বলে। Agaricus -এর ফ্রুটবডিকে ব্যাসিডিওকার্পও বলা হয়। ইহা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
(ক) স্টাইপ (Stipe)ঃ মাইসেলিয়াম হতে খাড়া উপরের দিকে উথিত শাখা-প্রশাখাবিহীন কান্ডের ন্যায় অংশকে স্টাইপ বলে। এটি ৫-৮ সেমি দীর্ঘ। ইহা পাইলিয়াস বহন করে। স্টাইপের মাথায় যে চক্রাকার অংশ থাকে তাকে অ্যানুলাস বলে। ইহা স্টাইপ ও পাইলিয়াসের মধ্যে সংযোগ সাধন করে।
(খ) পাইলিয়াস (Pileus)ঃ স্টাইপের অগ্রভাগে বিদ্যমান ছাতার ন্যায় স্ফীত অংশকে পাইলিয়াস বলে। তরুণ অবস্থায় পাইলিয়াস ভেলাম নামক ঝিল্লিময় আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এর ব্যাস ৫.০-১২.৫ সেমি। এর পৃষ্ঠদেশ মসৃণ কিন্তু অংকীয়দেশ অমসৃণ। অংকীয়তলে পাতের ন্যায় কতক গুলো অংশ থাকে। একে গিল বলে। প্রতিটি পাইলিয়াসে ৩০০-৫০০টি গিল থাকে। অপরিনত গিল গোলাপী বর্ণের এবং পরিনত গিল লাল-হলুদ বা লোহিত-পিঙ্গল বর্ণের হয়। প্রতিটি গিলে তিনটি অংশ রয়েছে। এ গুলো হলো-
(i) ট্র্যামা (Trama)ঃ গিলের মাঝখানের বন্ধ্যা অঞ্চলকে ট্র্যামা বলে। এই অঞ্চলের কোষ গুলো লম্বা, ঘন ও একাধিক নিউক্লিয়াস (ডাইক্যারিওটিক) বিশিষ্ট।
(ii) সাব-হাইমেনিয়াম (Sub-hymenium)ঃ ট্র্যামার উভয় পাশের অঞ্চলকে সাব হাইমেনিয়াম বলে। এ অঞ্চলের কোষ গুলো ছোট, গোলাকার ও ২-৩ নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। কোষ গুলোর এরুপ বিন্যাসকে প্রোজেনকাইমা বলে। এ অঞ্চল থেকে গদাকৃতির ব্যাসিডিয়া সৃষ্টি হয়।
(iii) হাইমেনিয়াম (Hymenium)ঃ গিলের সবচেয়ে বাইরের অঞ্চলকে হাইমেনিয়াম বলে। এ অঞ্চলে প্যারাফাইসিস এবং ব্যাসিডিয়া কোষ থাকে। প্যারাফাইসিস হলো সরু ও বন্ধ্যা কোষ বা অণুসূত্র। ব্যাসিডিয়া হলো মোটা ও উর্বর কোষ। প্রতিটি ব্যাসিডিয়ামে ৪টি করে সরু স্টেরিগমাটা থাকে। প্রতিটি স্টেরিগমায় ১টি করে গোলাকার বা ডিম্বাকার ব্যাসিডিওস্পোর থাকে। ব্যাসিডিওস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম গঠন করে।