যে সব শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন তাদেরকে অ্যাগ্র্যানিউলোসাইট বলে। এদের নিউক্লিয়াস বড়, অখন্ড ও স্বচ্ছ । শ্বেত রক্তকণিকার ২৮% হলো অ্যাগ্র্যানুলোসাইট। এরা অস্থিমজ্জা ও লিম্ফয়েড কলা থেকে উৎপত্তি লাভ করে। এদেরকে দুভাগে ভাগ করা যায়।
১। লিম্ফোসাইট (Lymphocytes)
লিম্ফোসাইট আকারে ছোট, গোলাকার এবং নিউক্লিয়াস বড়। ইহা সমসত্ত¡ ও ক্ষারধর্মী। এর ব্যাস ৬-১৬ µm। এদের সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিলিটারে ১৬৮০টি। শ্বেত রক্তকণিকার ২৪% হলো লিম্ফোসাইট। আয়ুকাল ৭ দিন। ইহা লাল অস্থিমজ্জা, যকৃত, প্লিহা ও লসিকা গ্রন্থি হতে উৎপন্ন হয়। লিম্ফোসাইট তিন ধরনের হয়।
(i) B-লিম্ফোসাইটঃ B-লিম্ফোসাইট থাইমাস গ্রন্থির থাইমোসাইটস থেকে সৃষ্টি হয়।
(ii) T-লিম্ফোসাইটঃ T-লিম্ফোসাইট অস্থিমজ্জার হিমাটোপয়টিক মাতৃকোষ থেকে উৎপন্ন হয়।
(iii) NK কোষঃ NK কোষ অন্য কোষের জন্য বিষাক্ত এবং অনাক্রম্যতার জন্য বিপদজনক।
লিম্ফোসাইটের কাজ
(i) অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে জীবাণু ধ্বংস করে
(ii) স্মৃতি কোষ হিসেবে কাজ করে
(iii) ভাইরাসকে সরাসরি আক্রমণ করে
(iv) ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে।
২। মনোসাইট (Monocytes)
মনোসাইট সবচেয়ে বড় শ্বেত রক্তকণিকা। এর নিউক্লিয়াস বৃক্কাকার বা অশ্বখুরাকৃতির। এর ব্যাস ১২-২০ µm। এদের সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিলিটারে ২৮০টি। শ্বেত রক্তকণিকার ৪% হলো মনোসাইট। আয়ুকাল ২-৫ দিন। ইহা লাল অস্থিমজ্জা (মনোব্লাস্ট কোষ), যকৃত, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি হতে উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন হওয়ার ৩০-৪০ ঘন্টা পর ইহা ম্যাক্রোফাজে পরিনত হয়।
মনোসাইটের কাজ
(i) প্রাকৃতিক ধাওর হিসেবে কাজ করে
(ii) ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে গ্রাস করে
(iii) ফ্যাগোসাইটোসিস ঘটায়।