১। ক্যাপসুলঃ ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের বাইরে যে শক্ত, পুরু, দৃঢ় ও সুগঠিত স্তর থাকে তাকে ক্যাপসুল বলে। ইহা পলিপেপটাইড বা পলিস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত। ক্যাপসুল স্তরটি পাতলা ও নমনীয় হলে তাকে স্লাইম স্তর বলে। ইহা পিচ্ছিল ও আঠালো। ইহা ব্যাকটেরিয়াকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে শুষ্কতা হতে রক্ষা করে। ইহ নাইট্রোজেন সংবন্ধনে কার্যকরী।
২। কোষ প্রাচীরঃ ব্যাকটেরিয়ার ক্যাপসুল স্তরের ভিতরে যে শক্ত, দৃঢ়, পুরু ও স্থিতিস্থাপক আবরণী বিদ্যমান তাকে কোষ প্রাচীর বলে। এটি জড় প্রকৃতির। ইহা মিউকোপেপটাইড বা পেপটাইডোগ্লাইক্যান বা মিউরিন দ্বারা গঠিত। তবে কোষ প্রাচীরে প্রোটিন, লিপিড এবং পলিস্যাকারাইডও থাকে। এতে কিছু পরিমাণ মুরামিক এসিড এবং টিকোয়িক এসিড থাকে। ইহা ১০-৫০ মিলিমাইক্রোন পুরু। কোষ প্রাচীরের স্থানে স্থানে কতক গুলো ছিদ্র থাকে। প্রতিটি ছিদ্রের ব্যাস ১ মিলিমাইক্রন। এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় পদার্থের আদান-প্রদান ঘটে। ইহা কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
৩।প্লাজমাপর্দাঃ কোষ প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত সুক্ষ্ম, সজীব, পাতলা ও স্থিতিস্থাপক পর্দাকে প্লাজমাপর্দা বলে। ইহা প্রোটিন ও ফসফোলিপিড দ্বারা গঠিত। প্লাজমা পর্দায় হেপানয়েডস নামক স্টেরল থাকে। এতে ৭০-৮০% প্রোটিন এবং ২০-৩০% লিপিড থাকে। ইহা ৭.৫-৮.০ nm পুরু। এতে পারমিয়েজ এনজাইম থাকে। এই এনজাইম প্রোটিন পরিবহন করে।
৪। সাইটোপ্লাজমঃ প্লাজমাপর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত কোষের বর্ণহীন অংশকে সাইটোপ্লাজম বলে। সাইটোপ্লাজমের অংশ গুলো হলো-
(i) রাইবোসোমঃ কোষের সাইটোপ্লাজমে মুক্ত ভাবে ৭০S রাইবোসোম অবস্থান করে। ইহা প্রোটিন ও RNA দ্বারা গঠিত। এতে ৩০-৫০% প্রোটিন এবং ৫০-৭০% RNA থাকে। প্রতিটি ব্যাকটেরিয়ামে ১০,০০০-২০,০০০ রাইবোসোম থাকে। ইহা কোষের জন্য প্রোটিন সংশ্লে¬ষণ করে।
(ii) ক্রোম্যাটোফোরঃ ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে ফাঁপা গোলাকার ক্রোম্যাটোফোর থাকে। এতে ব্যাকটেরিওক্লোরোফিল থাকে। ইহা সালোকসংশ্লে¬ষণে সাহায্য করে।
(iii) ভলিউটিনঃ তরুণ ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানাদার ভলিউটিন থাকে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইহা কোষ গহŸরে পরিনত হয়। ইহা কোষের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে এবং ফসফেট পরিবহন করে।
(iv) কোষ গহ্বরঃ কোষের সাইটোপ্লাজমে ছোট ছোট কোষ গহŸর থাকে। ইহা কোষ রস দ্বারা পুর্ণ থাকে।
(v) মেসোসোমঃ প্লাজমাপর্দা ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থলির মতো গঠন সৃষ্টি করে। একে মেসোসোম বলে। মেসোসোমকে কন্ড্রিওয়েড বলে অভিহিত করা হয়। ইহা শ্বসনে সাহায্য করে। ইহা DNA রেপ্লিকেশন করে এবং কোষ বিভাজনের সময় ব্যবধায়ক প্রাচীর গঠন করে। গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ায় মেসোসোম থাকে।
(vi) প্লাজমিডঃ কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত Extra-chromosomal গোলাকার দ্বিতন্ত্রী DNA-কে প্লাজমিড বলে। ইহা স্বপ্রজননক্ষম। ইহা কয়েক ধরনের জিন বহন করে। Fertility factor (F-factor), Resistance factor (R-factor), Nitrogen fixing genes (Nif-genes) প্রভৃতি। ইহা জিন প্রকৌশলীতে বাহক হিসেবে কাজ করে।
৫। নিউক্লিওয়েড (সিউডোনিউক্লিয়াস)ঃ ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রকৃত নিউক্লিয়াস থাকে না। এর নিউক্লিয়াসকে নিউক্লিওয়েড বা জেনোফোর বা সিউডোনিউক্লিয়াস বলে। এতে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস থাকে না। সাইটোপ্লাজমের কেন্দ্রে একটি মাত্র প্যাচানো দ্বি-সূত্রক DNA থাকে। DNA-এর কেন্দ্রে একটি গোলাকার RNA থাকে। RNA-কে ঘিরে নিউক্লিওপ্রোটিন থাকে। এতে হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। ইহা বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বংশানুক্রমে স্থানান্তরিত করে।
৬। ফ্ল্যাজেলাঃ সাইটোপ্লাজমের বহিঃস্তর থেকে যে সূত্রাকার চাবুকের মতো উপাঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে ফ্ল্যাজেলা বলে। শক্ত ফ্ল্যাজেলাকে ফিমব্রি বলে। ইহা ফ্ল্যাজেলিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত। এর দৈর্ঘ্য ৪-৫ nm। ফ্ল্যাজেলা ব্যাকটেরিয়াকে চলনে সাহায্য করে। প্রতিটি ফ্ল্যাজেলার তিনটি অংশ থাকে। বেসাল বডি, হুক ও ফিলামেন্ট। ফ্ল্যাজেলা যুক্ত ব্যাকটেরিয়াকে ট্রাইকাস এবং ফ্ল্যাজেলাবিহীন ব্যাকটেরিয়াকে অ্যাট্রাইকাস ব্যাকটেরিয়া বলে।
৭। পিলিঃ গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বহির্গাত্র হতে অসংখ্য সুক্ষ্ম চুলের মতো উপাঙ্গ সৃষ্টি হয়। এদেরকে পিলি বা ফিমব্রি বলে। ইহা সংখ্যায় ফ্ল্যাজেলার চেয়ে বেশি এবং দৈর্ঘ্যে ছোট। ইহা পিলিন নামক প্রোটিন দ্বারা গঠিত। প্রজননের সময় কনজুগেশন টিউব সৃষ্টি করে বলে একে যৌন পিলি বলে। গনোরিয়া রোগের ব্যাকটেরিয়া পিলি দ্বারা পোষক কোষের সাথে যুক্ত থাকে।