একাইনোডার্মাটা পর্বের বৈশিষ্ট্য ।। Echinodermata।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ল্যাটিন শব্দ Echinus অর্থ কাঁটাময়, derma অর্থ ত্বক এবং ata অর্থ বহন করা নিয়ে Echinodermata শব্দটি গঠিত। যে সকল প্রাণীর দেহ অরীয় প্রতিসম, পাঁচটি অংশে বিভক্ত, সিলোমবিশিষ্ট, মস্তকবিহীন, সংবহনতন্ত্র যুক্ত এবং কন্টকময় ত্বকবিশিষ্ট তাদেরকে একাইনোডার্মাটা বলে। এদেরকে কন্টকত্বক প্রাণি বলা হয়। সমুদ্র তারা (sea star), সমুদ্র শশা (sea cucumber), সমুদ্র লিলি (sea lilies), সমুদ্র আর্চিন (sea urchin), স্যান্ড ডলার (sand dollar) প্রভৃতি প্রাণী এই পর্বের অন্তর্ভুক্ত। প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ৭,৫৫০টি। Jacob Klein (১৭৩৪) Echinodermata নামকরণ করেন।

একাইনোডার্মাটা পর্বের বৈশিষ্ট্য
১। এদের দেহ অখন্ডায়িত, নলাকার বা গোলাকার অথবা তারকাসদৃশ বা পুষ্পসদৃশ।
২। এদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম বা পঞ্চপার্শ্বীয় প্রতিসম বা অরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভক্ত।
৩। দেহ ত্বক কন্টকময়। বহিঃকংকাল স্পাইন ও পেডিসিলারী যুক্ত এবং অন্তঃকঙ্কাল ক্যালসিয়াম কার্বনেট নির্মিত অসংখ্য অসিকল দ্বারা গঠিত। ইহা সিলিয়া যুক্ত আবরণী কলা দ্বারা আবৃত।
৪। দেহ সুস্পষ্ট মৌখিক তল ও বিমৌখিক তলে বিন্যস্ত। ওরাল তলে পাঁচটি অ্যাম্বুলাক্রাল খাঁজ বিদ্যমান।
৫। এদের পানি সংবহনতন্ত্র আছে, যা শ্বসন ও চলন ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
৬। পানি সংবহনের জন্য রিং ভেসেল, রেডিয়াল ক্যানাল, মেড্রিপোরাইট, স্টোন ক্যানাল ও ল্যাটারাল ক্যানাল আছে।
৭। এদের চলন অঙ্গ হলো নালিকা পদ বা পোডিয়া। ইহা শ্বসন ও খাদ্য আহরণের কাজ করে।
৮। হিমাল ও পেরিহিমালতন্ত্র সংবহনের কাজ করে।
৯। দেহে মস্তক, শ্বসনতন্ত্র, রেচনতন্ত্র ও রক্ত সংবহনতন্ত্র নাই।
১০। সকল প্রাণী সামুদ্রিক।
১১। জীবনচক্রে বাইপিনারিয়া, অরিক্যুলারিয়া, অফিওপ্লুটেয়াস, একাইনোপ্লুটেয়াস লার্ভা থাকে।

[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ অখন্ডায়িত, কন্টকময়, মৌখিক তল, বিমৌখিক, নালিকা পদ, হিমাল ও পেরিহিমালতন্ত্র]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *