কলেরা রোগের জীবাণু মানুষের অন্ত্রে প্রবেশের পর ১-৫ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশিত হয়। এ রোগের লক্ষণ গুলো হলো-
১। এই রোগে রোগীর ডায়রিয়া হয় এবং পাতলা পায়খানা মাছের ন্যায় গন্ধ বিশিষ্ট হয়।
২। পায়খানা চালে ধোয়া পানির মতো হয়। মলের সাথে রক্ত দেখা যায়।
৩। শরীর হতে ১০-১৫ লিটার পানি বেরিয়ে যায় এবং পানি শুন্যতা দেখা দেয়। একে Dehydration বলে ।
৪। ক্রমাগত বমি হয় এবং শরীরে সোডিয়াম আয়নের অভাব দেখা দেয়।
৫। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, অস্থিরতা প্রকাশ পায় এবং দেহ ঠান্ডা হয়ে তাপমাত্রা ৯৫-৯৬ ডিগ্রী ফারেনহাইটে নেমে আসে।
৬। প্রসাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মূত্রশুন্যতা সৃষ্টি হতে পারে।
৭। ঘন ঘন প্রচন্ড পানি পিপাসা, কিন্তু পানি ধরে রাখতে পারে না।
৮। পেটের মাংসপেশিতে খিল ধরে আসে, হাতে পায়ে টান ধরে এবং খিচুনী হয়।
৯। রক্ত ঘন হয় এবং রক্ত চাপ কমে ৭০-৯০ মিলিমিটারে দাঁড়ায়।
১০। চোখ বসে যায়, চোখ কোঠরে ঢুকে যায় এবং চোখের চার পাশে ধুসর দাগ পড়ে।
১১। রোগীর চামড়া শুষ্ক ও ঢিলা হয়ে যায়, মুখমন্ডল মলিন হয়ে যায়, দেহ বিবর্ণ হয়ে যায়।
১২। ব্যাকটেরিয়া কোষ থেকে নিঃসৃত এন্টেরোটক্সিন বা কলেরাজেন অন্ত্রের প্রাচীরে ক্ষত সৃষ্টি করে।
১৩। নাড়ীর গতি খুব ক্ষীণ হয়। হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ব্যাহত হয়।
১৪। হাত ও পায়ের মাংসপেশি গুলোর সঙ্কোচন বা cramp ঘটে এবং কুকড়ে আসতে থাকে।
১৫। রক্ত প্রবাহ কমে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। রোগী অচেতন হয়ে পড়ে এবং মারা যেতে পারে।
১৬। পায়ুতে তাপ বেশী থাকে। পায়ু ব্যথা হয়ে যায়।
১৭। আঙ্গুলের মাথা নীলাভ হয়ে যায়।