১। উচ্চ ফলনশীল ধান উদ্ভাবনঃ বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ধানের পরিবর্তন ঘটিয়ে বিরি-১, বিরি-২, বিরি-৩, বিরি-১৫, বিরি-২৬ প্রভৃতি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। বর্তমানে আরো উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে।
২। উচ্চ ফলনশীল গম উদ্ভাবনঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) সংকরায়নের মাধ্যমে ১৭টি উফশি জাতের গম উদ্ভাবন করেছে। উচ্চ ফলনশীল গমের জাত হলো- বলাকা, আকবর, কাঞ্চন, বরকত, সওগাত, BR-২৭ ও BR-২৮। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এদের মধ্যে পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে।
৩। রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনঃ বুনো রোগ প্রতিরোধী ফসলের সাথে আবাদি রোগ কাতর ফসলের প্রজনন ঘটিয়ে রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা হয়। যেমন- মুক্তা (BR-11), গাজী (BR-14), মোহিনী (BR-15), শাহী বালাম (BR-16) প্রভৃতি ধানের রোগ প্রতিরোধী জাত। পরিবর্তিত জাত যে কোন পরিবেশে সফল ভাবে চাষ হচ্ছে।
৪। প্রতিকূল সহিঞ্চু জাত উদ্ভাবনঃ কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উদ্ভিদের এমন জাত সৃষ্টি করা হয়েছে যা প্রতিকূল পরিবেশে জন্মাতে পারে। এ সব জাত খরা, বন্যা, লবণাক্ততা প্রভৃতি সহ্য করতে পারে।
৫। গুণগত মান উন্নয়নঃ কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শস্যদানার আকার, বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটানো
৬। আবাদকাল সংক্ষিপ্তকরণঃ কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে ফসলের আবাদকাল ২০-৩০ দিন পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। ফসলের আবাদকাল হ্রাস একটি যুগন্তকারী পরিবর্তন।
৭। অধিক অভিযোজন ক্ষমতাঃ কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সৃষ্ট উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা বেশি হয়। তাই পরিবেশীয় পীড়ন সহ্য করতে পারে। যে কোন পরিবেশে টিকে থাকতে পারে।
৮। একই সময়ে পরিপক্কতাঃ কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে একই সময়ে পরিপক্ক হয় এমন ফসল উদ্ভাবন করা হয়। এতে ফসল সংগ্রহে পরিশ্রম এবং অর্থ কম ব্যয় হয়।
৯। বীজ ঝরে পড়া স্বভাবের পরিবর্তনঃ অনেক ফসলের বীজ মাঠে ঝরে পড়ে। এতে ফসলের ফলন কমে যায় এবং কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ফসলের বীজ ঝরে পড়া স্বভাবের পরিবর্তন করা হয়েছে।
১০। ভ্যারিয়েশন সৃষ্টিঃ কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে নতুন জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। এতে ফসলের বিভিন্ন জাতের মধ্যে ভ্যারিয়েশন বা বৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হয়। ফলে উদ্ভিদে বিবর্তন ঘটে।